
খাদিমুল ইসলাম বানারহাট :- বানারহাট ব্লকের চামুর্চি গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেস বড় রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের ১১ জন সদস্য একযোগে দল থেকে ইস্তফা দিয়ে জানিয়েছেন, এবার থেকে তাঁরা নির্দল সদস্য হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবায় কাজ করবেন। ইস্তফা দেওয়া সদস্যদের অভিযোগ, দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের অভাব, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং সাংগঠনিক অস্থিরতার কারণে উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। তাই জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলের চাপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এই প্রসঙ্গে কাঠালগুড়ির পঞ্চায়েত সদস্য বিদুর ছেত্রী বলেন, এখন থেকে তিনি মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন। চামুর্চি চা বাগানের পঞ্চায়েত সদস্য রোহিত ছেত্রী জানান, দলের অভ্যন্তরীণ বিভ্রান্তি ও সমন্বয়ের অভাবের কারণে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থে নির্দল সদস্য হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, চুনাভাট্টি চা বাগানের পঞ্চায়েত সদস্য লক্ষ্মী তুরি বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গ্রামের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণেই তাঁরা কাজ করবেন।
উল্লেখ্য, ৩০ সদস্যের চামুর্চি গ্রাম পঞ্চায়েতে এতদিন তৃণমূল কংগ্রেসের ২২ জন, বিজেপির ৫ জন, কংগ্রেসের ১ জন এবং সিপিআই(এম)-এর ২ জন সদস্য ছিলেন। ১১ জন সদস্যের একযোগে ইস্তফার পর পঞ্চায়েতের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে, মেটেলি ব্লকের বাতাবাড়ি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতেও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীপা মিজার, মেটেলি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অর্জুন মিজার এবং সুধার রাই কুজুরও তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। চামুর্চি ও চালসার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডুয়ার্সের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। এই ইস্তফার প্রভাব স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়নমূলক কাজে কতটা পড়বে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

