
অভিজিৎ হাজরা,পাঁচলা, হাওড়া : হাওড়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সূত্রে জানা গেল জেলা স্থিত প্রায় সবকটি হাইস্কুলই মিড ডে মিলের অর্থ তছরুপের দায়ে অভিযুক্ত। সমান দায়ে অভিযুক্ত ছাত্রাবাসের হিসেবেও।
এ প্রসঙ্গে তদন্তে নেমে বিভিন্ন ব্লক ঘুরে যে চিত্র ফুটে উঠেছে তাতে আর পাঁচটা ব্লককে পিছনে ফেলে দিয়েছে পাঁচলা ব্লক। আধিকারিক সূত্রে খবর অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের জমা দেওয়া অভিযোগ পত্র অনুযায়ী পাঁচলা ব্লকের পনেরটি স্কুলে মিড ডে মিলের পুকুর চুরি দশা। এগুলির মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে পাঁচলা আজিম মোয়াজ্জেম হাইস্কুল, হাকোলা ঊমেশচন্দ্র হাইস্কুল, তালবান্দি বেলায়েত আলি হাইস্কুল,নয়াচক যদুনাথ ও শুভরআড়া হাইস্কুল,দেউলপুর হাইস্কুল, পি এন মান্না বেললডুবি হাইস্কুল প্রভৃতি। এবং পাশাপাশি গঙ্গাধরপুর গার্লস বয়েজ, জুজারসা বিবেকানন্দ , জয়নগর পল্লীশ্রী সহ আরো অনেক বিদ্যালয়।কিন্তু শেষ কথা যেটা উঠে আসছে, সেটা হলো সব কটিরই প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রক ছিলেন বিগত দিনের পাঁচলা বিধান সভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক জনাব গুলশান মল্রিক।এবং তার নিয়ন্ত্রক বাহিনী হীরা, আলাকাশ, মাইকেল, সিরাজুল জাহাঙ্গীর। এবং পাঁচলার বর্তমান এ আই অমৃত সামন্ত,পাঁচলা নর্থের এস আই অমৃতা সিনহা এর নামও ঘুরে ফিরে আসছে অভিভাবক,অভিভাবিকা সহ শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের মুখে। সেই সঙ্গে উঠে আসছে
তারই শিখণ্ডী টি আই সি, এ এইচ এম কিম্বা গ্রুগ ডি ঐ সকল স্কুলের সর্বময় কর্তাদের নামও।
নয়াচক স্কুলের পোষ্টার কাণ্ডের তদারকি করতে গিয়ে জানা গেল ইতিমধ্যে হাকোলা ঊমেশ চন্দ্রের সিরাজূল মল্লিক তছরূপ কাণ্ডে ফেরার। আলাকাশ ফেরার থেকে ফিরে ভোল পাল্টে শান্তিশ্রী। তালবান্দির সুরাহাজি বেপাত্তা। সংগঠন সূত্রে খবর এই হাজীজী আবার নিজের স্ত্রীকে মিড ডে মিল কর্মী হিসাবে দেখিয়ে রেখেছেন অথচ একদিনও কাজে যোগ দেননি। কিন্তু মাইনে তুলেছেন মাসের পর মাস। এবং এখনো তুলে যাচ্ছেন বলে জানালেন সংগঠনের স্বয়ংসেবক অভিলাষ ঘোষ।তিনি জানালেন এই স্কুলের টি আই সি ও গ্রুপ ডি জাহাঙ্গীর আলির উপর স্থানীয়দের প্রচণ্ড আক্রোশ। হিংসা এড়াতে আমরা এখনি মুভমেণ্ট করছি না ঠিকিই । তবে মিড ডে মিল ও ছাত্রাবাস নিয়ে যে তছরুপের চিত্র ফুটে উঠেছে তার পূর্ণ তদন্ত হবে এবং দায়িত্বে থাকা স্কুল প্রধানকে অবশ্যই খেসারত দিতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

