:- বাংলার সাহিত্য ও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ‘বন্দে মাতরম’ শুধুমাত্র একটি গান নয়, এটি এক আবেগ, এক চেতনা এবং দেশপ্রেমের অমর প্রতীক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস আনন্দমঠ-এ। পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মুখে মুখে ধ্বনিত হয়ে ‘বন্দে মাতরম’ হয়ে ওঠে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অনুপ্রেরণার মন্ত্র। মাতৃভূমিকে দেবীরূপে কল্পনা করে লেখা এই গান আজও সমানভাবে জাগিয়ে তোলে দেশাত্মবোধ ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের অনুভূতি। সেই ঐতিহাসিক গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শহরে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী ফ্যাশন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। দেশাত্মবোধ, ঐতিহ্য, নারীশক্তি ও শিল্পসত্তার অপূর্ব মেলবন্ধনে সাজানো এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন একঝাঁক প্রসাধনি শিল্পী ও মডেল। অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন প্রজন্মের সামনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক আবেদনকে আধুনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা। পুরো আয়োজনের উদ্যোক্তা ছিলেন তনু সরকার। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রসাধনি শিল্পী হিসেবে নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেন মেঘা সরদার, পাপিয়া মন্ডল, টিটলি পেটো, মৌসুমী দত্ত মুখার্জী, তনুশ্রী জানা, সুষমা মজুমদার, তনুশ্রী বসাক, ইশিতা সিং, রশ্মি তেওয়ারি, রুম্পি ঘোষ, তনুশ্রী বিশ্বাস, জ্যোতি কুমারী চৌধুরী, রাকেশ পাল, কাকলী ভৌমিক, সান্তা ভদ্র, মুশারাত জাহা, লালি ঘরামি, রীনা বাইন, মিস্তু সাহা, প্রদীপ মন্ডল, তনুশ্রী কোলে এবং শর্মিষ্ঠা দাস। তাঁদের মেকআপ ও থিমভিত্তিক শিল্পভাবনা র্যাম্পকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয় ও জীবন্ত। র্যাম্পে মডেল হিসেবে অংশ নেন টিনা পাত্র, দেবাঙ্গনা আইচ, আমাইরা প্রসাদ, আমরিকা মণ্ডল, ভূমি যাদব, পায়েল চক্রবর্তী রায়, রিপ্তা দে, সুপ্রিয়া শর্মা, তৃপ্তি মণ্ডল, সাহালি পাত্র, মহিমা চ্যাটার্জী, তৃষা মণ্ডল, সাথী কয়াল, পাখি দত্ত, সঞ্চিতা মিস্ত্রি, ব্রিহীপর্ণী বিশ্বাস, বৃষ্টি কর্মকার, কৃতিকা দে, মৌপিয়া বাছাড়, রোশনি মল্লিক এবং সাহেলি বিশ্বাস। তাঁদের দেশাত্মবোধক উপস্থাপনা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও আত্মবিশ্বাসী পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন চিত্রগ্রাহক রাজ চক্রবর্তী। আলোকসজ্জা, রঙের ব্যবহার এবং দেশপ্রেমের আবহে তৈরি এই আয়োজন যেন একসঙ্গে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধুনিকতার সেতুবন্ধন তৈরি করে।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান প্রজন্মের কাছে দেশের ঐতিহ্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে নতুনভাবে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। উপস্থিত দর্শক ও অতিথিরাও এই অভিনব ও ভাবনাসমৃদ্ধ অনুষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

