20, Oct-2020 || 10:50 am
Home জেলা ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে

ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, নদীয়া, ২৬ মে: ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলো প্রধানের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে এলাকাবাসীরা তাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায়। পরে পুলিশ এলে তাকে উদ্ধার করে।

জানা যায়, আমফান ঝড়ে তেহট্টর চিলাখালি গ্রামের ১৪৬ নম্বর বুথের পিডব্লিউডির জমিতে থাকা আম গাছটা পড়ে যায়। এলাকার মানুষের অভিযোগ শ্যামনগর পঞ্চায়েতের প্রধান বাসুদেব ঘোষ গোপনে গাছটা কেটে নিয়ে যাচ্ছিল। এরপরে গ্রামবাসীরা তা দেখতে পেয়ে প্রধান এবং প্রধানের সাথে থাকা আরো একজনকে বাধা দেন, এবং প্রধান কে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরে পুলিশ এসে প্রধানকে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় প্রধান তাঁকে এবং তাঁর কর্মীকে হেনস্থা করার অভিযোগে সাতজনের নামে তেহট্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার সত্যাসত্য জানতে শ্যামনগরের প্রধান বাসুদেব ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- আমফান ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে গেছিল মেন রাস্তার ওপর। বকুলতলা সংলগ্ন এলাকায় একটা আম গাছ পড়ে গেছিল। ফলে রাস্তা আটকে পড়েছিল। মানুষ চলাচল করতে পারছিল না। বিডিওর মৌখিক নির্দেশ ছিল গাছটা রাস্তা থেকে সরিয়ে দেবার জন্য। যাতে যাতায়াতের কোনো সমস্যা না হয়। সেই নিয়ে একটা ঝামেলা হয়েছে। আমাকে চোরের অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমাকে এবং আমার পঞ্চায়েত কর্মীকে হেনস্থা করা হয়েছে। আমি সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছি।

তেহট্টর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক অচ্যুতানন্দ পাঠকের কাছে ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমি প্রধান কে বলেছিলাম রাস্তার ধারের গাছগুলোকে মার্কিং করে রাখতে। যাতে অন্য কেউ না নিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি যদি ঝড়ের পর গাছ পরে এলাকাবাসীর সমস্যা হয় তাহলে যত দ্রুত সম্ভব গাছটা যাতায়াতের পথ থেকে সরিয়ে দেবার জন্য। তবে সেইসময় প্রাথমিক একটা সমস্যা হয়েছিল। এখন সেটা মিটে গেছে। নতুন করে কিছু হলে আমার জানা নেই।

বামফ্রন্টের তেহট্ট দক্ষিণ এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুবোধ বিশ্বাস জানান- এত বড় একটা ঘূর্ণিঝড়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু গাছপালা পড়েছে। যে ডিপার্টমেন্ট গুলো আছে সে ডিপার্টমেন্ট গুলো গাছ গুলো তুলে নিয়ে যাবে। বিডিও সাহেব বিষয়টাকে চেপে যাচ্ছেন। বিডিও সাহেব মৌখিকভাবে কোন নির্দেশ দেননি। যেদিন অভিযোগ করা হয়েছে তখনো তিনি বলেননি যে তিনি মৌখিকভাবে কোন নির্দেশ দিয়েছেন। বি ডিও সাহেব তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন। প্রধান নিজের মতো করে গাছটা কেটে নিয়ে আত্মসাৎ করতে যাচ্ছিলেন। গ্রামবাসীরা অরবিন্দ বিশ্বাস নামে একজনকে বাধা দেন। যিনি গাছটা কেটে রেডি করে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একজন সরকারি কর্মচারী সেখানে গিয়ে নাম্বারিং করতে যান। তখন গ্রামবাসীরা বলেন যে নাম্বারিং করা যাবেনা। এরপর প্রধান সেখানে আসেন। প্রধান কে ঘিরে মানুষ বিক্ষোভ দেখায় এবং প্রধান জোর করে গাছটা তুলে আনবার চেষ্টা করে। মানুষ তুলতে দেয়না। পরে পুলিশ যায়। পুলিশ গিয়ে গাছটাকে পঞ্চায়েত সদস্য হাফিজুল শেখের জিম্মায় রেখে জনরোষের হাত থেকে প্রধান কে উদ্ধার করে নিয়ে চলে যায়।

বিজেপির নদীয়া জেলার উত্তরের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অর্জুন বিশ্বাস জানান, প্রধান অবৈধভাবে কাঠ ব্যবসায়ীদের নিয়ে এসে গাছটা চালান করার চেষ্টা করেছিল। এর আগে শ্যামনগরে অনেক ঘটনা ঘটেছে। যখনই কোন ঝড় বৃষ্টি হয় তখন এরকম অনেক গাছ সুযোগ বুঝে বিক্রি করে দেয়। সেই জন্য গ্রামবাসী প্রধানকে আটকেছে এবং গাছ কেটে এখানেই রেখে দিতে হবে ওরা বলেছে। ও তুলেই নিয়ে যাচ্ছিল। গাছ সরানোর ইচ্ছে থাকলে গাছ কেটে পাশে রেখে দিত। রাস্তা থেকে গাছ সরানো এক জিনিস, আর চুরির বিষয় আরেক জিনিস। প্রধান যদি গাছটা কেটে সরিয়ে রাখতো তাহলে গ্রামবাসীরা কিছু বলতো না কিন্তু গ্রামবাসীরা যখন দেখল গাড়ি নিয়ে গাছ কেটে তুলে নিয়ে যাচ্ছে তখন তারা বাধা দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

তৃণমূল কংগ্রেস মহিলা শাখার পাশাপাশি শুরু করলো বঙ্গজননী সংগঠন

প্রদীপ মজুমদার, নদীয়াঃ তৃণমূলের মহিলা শাখার ওপর আর ভরসা না থাকায় তৃণমূল কংগ্রেস মহিলা শাখার পাশাপাশি শুরু করলো বঙ্গজননী সংগঠন।এই সংগঠনের কাজ...

বাঘমুন্ডি ব্লক কংগ্রেসের ডাকে প্রতিবাদ মিছিল

বাপ্পা রায়, বাঘমুন্ডি, পুরুলিয়া, ১৮ অক্টোবর :- রবিবার পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডি ব্লক কংগ্রেসের ডাকে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতির দাবি...

নদীয়ার বাদকুল্লার সুরভী স্থানে ২৬৮ নম্বর বুথ তৃণমূল কংগ্রেস কমিটি এক স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির

প্রদীপ মজুমদার, নদীয়াঃ রক্তদান জীবন দান আর রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচান। বর্তমান করোনা আবহে রাজ্যে রক্ত সংকট দেখা গেছে। রক্তের প্রয়োজন থাকলেও...

আজ তাঁদের পরিবারের প্রয়োজন ফুরিয়েছে তাই আজ তাঁদের ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম

প্রদীপ মজুমদার,নদীয়া: একসময় ওদেরও ছিল ভরা সংসার, ছিল ছেলে, মেয়ে, পুত্রবধূ ,জামাই,নাতি নাতনি। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ওরা শুনতে পেতেন ছেলেমেয়েদের বাবা,মা...