12, Apr-2021 || 12:09 pm
Home কলকাতা ২০২৪ সালের মধ্যে বিলুপ্ত হবে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি : সুদর্শন

২০২৪ সালের মধ্যে বিলুপ্ত হবে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি : সুদর্শন

হীরক মুখোপাধ্যায় (১ এপ্রিল ‘২১):– ” ২০২৪ সালের মধ্যে বিলুপ্ত হবে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি,” বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মত প্রকাশ করলেন সুদর্শন দাশ।

‘জনসঙ্ঘ পার্টি’-র হয়ে ১১৯ নম্বর বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এই বছর নির্বাচনী ময়দানে প্রার্থী রূপে লড়ছেন সুদর্শন দাশ।
সাম্প্রতিক অতীতে সুদর্শনবাবু ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’-র বারাসাত সাংগঠনিক জেলা শাখার সদস্যও ছিলেন।

আজ এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সুদর্শন দাশ জানান, “ভারতীয় জনতা পার্টি-র উৎপত্তির মূলেই ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’। সেই দলের হয়েই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।”

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, একসময় প্রদীপ চিহ্ন ছিল ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’-র নিজস্ব প্রতীক। ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’ পরবর্তী পর্যায়ে প্রথমে ‘জনতা পার্টি’ ও পরে ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’ রূপে পরিচিতি লাভ করে।
‘ভারতীয় জনতা পার্টি’-র জন্মলগ্নের সময় থেকে ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’ তাদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে আর কখনো দেশের কোনো প্রান্ত থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেনি।
এত বছর বাদে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২১-এর সময় আবার ধীরে ধীরে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’।

পশ্চিমবঙ্গের বুকে ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’-র উত্থানে অশনি সঙ্কেত দেখছে ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’-র পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ শাখা।
একে তো রাজ্যের দিকে দিকে প্রার্থী পছন্দ না হওয়ার কারণে গোষ্ঠী কোন্দলে জর্জরিত ছিল ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’। এর উপর বিষফোড়া রূপে দেখা দিতে চলেছে ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’-র অস্তিত্ব।

এতদিন পশ্চিমবঙ্গে সেভাবে ‘বিজেপি’-র প্রভাব উপলব্ধি না হলেও গত লোকসভা নির্বাচনের পরে এই রাজ্যে শাসকদলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনে প্রধান বিকল্প শক্তি রূপে দিকে দিকে চর্চিত হচ্ছে বিজেপি।
ঠিক এই সময় কী এমন প্রয়োজন হলো যে পশ্চিমবঙ্গে ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’-কে আসরে নামতে হলো ?
এই প্রশ্নের উত্তরে সুদর্শন দাশ জানান, “দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি নেতাদের জীবনশৈলী, তাদের চালচলন, হাবভাব, শারীরিক ভাষা, মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেছে।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর মূল আদর্শ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে বিজেপি।
শ্যামাপ্রসাদ বলেছিলেন, ‘অন্যায় হতে দেখলে প্রথমে প্রতিবাদ করো, কাজ না হলে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করো, তাতেও সুরাহা না হলে অন্তিম ব্যবস্থা রূপে প্রতিশোধ নাও’। কিন্তু বড়োই দুর্ভাগ্যের বিষয় আজ চোখের সামনে অন্যায় হতে দেখলেও বিজেপি বিভিন্ন স্বার্থের জন্য অন্যায়ের প্রতিবাদ তো করেই না উল্টে অন্যায়কারীকে সমর্থন করে প্রশ্রয় দেয়, দরকার পড়লে আশ্রয় দেয়, এমনকি কখনো কখনো অন্যায়কারীকে বাঁচাতে ন্যায়যোদ্ধাদের বলিও দেয়।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর আদর্শের কথা ভাবলে এই জিনিস মেনে নেওয়া সম্ভবপর নয় বলেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে অবতরণ করলো ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’।”

মুখে আদর্শের কথা বলা এক জিনিস আর ভোট পাওয়া আর এক জিনিস। কোন অঙ্ক মাথায় রেখে বারাসাতে ভোটযুদ্ধে নামল ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’, এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সুদর্শন দাস জানান, “বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে পৌরসভার ৩৫ টা ওয়ার্ড ও পঞ্চায়েত এলকার ৩৩ টা আসন, এর মধ্যে ২৬ টা ওয়ার্ড ও ২০ টা অঞ্চলের বিজেপি সভাপতিরা ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’-র সাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অন্যান্যরাও যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন।”

বিজেপি-র মনোনীত প্রার্থী পছন্দ নয় বলেই কী সাত তাড়াতাড়ি ভোটে নামা ?
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রার্থীর সাফ জবাব, “বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি-র প্রার্থী আমার শত্রু নয়, আমাদের লড়াই ওঁর বিরুদ্ধেও নয়। আমাদের লড়াই বর্তমানে ঘুন ধরা বিজেপি-র বিরুদ্ধে।”

‘জনসঙ্ঘ পার্টি’ তাদের সহশক্তি রূপে সঙ্ঘ পরিবার-কে কী আদৌ পাশে পাবে ? এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সুদর্শনবাবু ঘুরিয়ে সঙ্ঘ পরিবারের কোর্টেই বল ঠেলে জানান, “এখনকার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব কী আদৌ সঙ্ঘ পরিবারের নির্দেশ মেনে চলে, সঙ্ঘ পরিবারের কোনো সদস্য কী বিজেপি থেকে সামান্যতম সম্মানও পান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর আদর্শর অপমান কী সঙ্ঘ পরিবারের অপমান নয়, বিজেপির অপকর্মের ফলে কী ভেতর ভেতর রাগে ফুঁসছেনা সঙ্ঘ পরিবার, যদি তাঁরা আশাহত হয়ে থাকেন তবে নিশ্চয়ই তাঁরাও এবার সরাসরি ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’-কেই সহায়তা করবে।”

দু-একদিনের মধ্যেই রাজ্যে আসছেন ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’-র রাষ্ট্রীয় অধ্যক্ষ জয়েন্দ্র সিং, তিনি এলেই তৈরী হবে ভবিষ্যতের রণকৌশল। ইতিমধ্যে বারাসাত সহ রাজ্যের ৫৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে ‘জনসঙ্ঘ পার্টি’।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২১ কী তাহলে স্মরণীয় হয়ে থাকবে সঙ্ঘ পরিবারের আভ্যন্তরীণ ফাটলের জন্য, এটাই এখন চর্চার মূল কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

সত্যি কী ২০২৪ সালের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুছে যাবে বিজেপি, এই নির্বাচনী লড়াইয়ে ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ’ (আরএসএস) এবং সঙ্ঘ পরিবারের ভূমিকা কী হবে তার দিকেই নজর রাখছে রাজ্যের তথ্যাভিজ্ঞ মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

রাজারহাটে ভাইজান

রাজীব দত্ত, রাজারহাট: আজ 115 নম্বর রাজারহাট নিউ টাউন বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআইএম ও সংযুক্ত মোর্চা মনোনীত প্রার্থী সপ্তসী দেবের সমর্থনে রাজারহাট লাউহাটি...

কামারহাটি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া স্বনামধন্য অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী

রাজীব দত্ত, কামারহাটি : আজ দুপুরে কামারহাটি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে, উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া স্বনামধন্য অভিনেতা মিঠুন...

আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরেও নিখোঁজ বারাসাতের বিজেপি কর্মীবৃন্দ

হীরক মুখোপাধ্যায় (৭ এপ্রিল '২১):- জেলা ও দায়রা আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরেও নিখোঁজ বারাসাতের ৪ বিজেপি কর্মী।বিজেপি কর্মীদের পুলিস পুনরায় গ্রেফতার...

নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে “ওয়েবকুপা”-র অনুষ্ঠান।

নিজস্ব সংবাদাতা, নন্দীগ্রাম: তৃতীয়বারের জন‍্য পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাসীন করার লক্ষ্যে মুখ‍্যমন্ত্রীর সমর্থনে এবারো প্রচারে নামলেন পশ্চিমবঙ্গের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েরঅধ্যাপক সমিতি ওয়েবকুপা।...