27, Sep-2021 || 04:00 pm
Home জেলা আজ ঈশ্বর গুপ্তের জন্মদিনে তাঁর বাঙালীয়ানার একটু পরিচয় নেওয়া যাক

আজ ঈশ্বর গুপ্তের জন্মদিনে তাঁর বাঙালীয়ানার একটু পরিচয় নেওয়া যাক

অর্পিতা সিনহা,বাঁকুড়া:উনিশ শতকে মানবিক মূল্যবোধ যখন নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার ভিতর দিয়ে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখনই এদেশের সংস্কৃতিতে এক সংঘাতময় দ্বন্দ্বের সূচনা হয়েছিল।এই সময় ঈশ্বর গুপ্ত তাঁর কবিতা রচনা শুরু করেছিলেন।পদ্য,গদ্য দুই রচনা করলেও,পদ্য লেখক ঈশ্বর গুপ্ত ছিলেন একান্ত ভাবেই আধুনিক।তাঁর কবিতায় আধুনিকতার স্পর্শ ছিল বিষয় নির্বাচনে।ঈশ্বর গুপ্তের কবিতায় ভাবের দূর্বলতার সাথে শব্দ অলংকারের চটক লক্ষ্য করার মতো। বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য,বাঙালির জীবনযাত্রার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি তিনি তাঁর কাব্যে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন।
বাঙালির ভোজনপটুতা বিশ্ববাসীর জানা।ভোজনপটু বাঙালির প্রতিনিধি কবি ঈশ্বর গুপ্ত।তিনি বাঙালির বিচিত্র খাদ্যসম্ভার ও রসনারসিক বাঙালির যে পরিচয় দিয়েছেন তা অনস্বীকার্য।বর্ষার কবি হিসাবে রবীন্দ্রনাথের যে পরিচয় আছে ঠিক একই রকম ভাবে ঈশ্বর গুপ্তের কবিতায় পেটুকতা নাম ডাক ও সর্বজনবিদীত।পেটুকতার মধ্যে দিয়ে তিনি বাঙালি জাতির ভোজনবিলাসিতার প্রাধান্য বজায় রেখেছেন।”পাঁঠা”, “এণ্ডাওয়ালা তপস্যা মাছ”, “আনারস”,”পৌষপার্বন “প্রভৃতি কবিতায় খাদ্য রসের কথা উল্লেখযোগ্য।”এণ্ডাওয়ালা তপস্যা মাছ” কবিতায় তিনি বলেছেন বাঙালি ভেজে ,ঝালে, ঝোলে মাছ খায় তবু তার বাসনা মেটে না।যত খায় তত তার লোভ বেড়ে যায়।আবার তিনি বাঙালি দের সম্বন্ধে বলেছেন খেতে না পেরে তারা যদি ঘ্রাণ নেয় তাতেই তাদের অর্ধভোজন হয়ে যায়। ভোজন শেষে বাঙালিরা যে অতিথিকে পান সুপারি দেয় ঈশ্বর গুপ্ত এই লৌকিকতাটুকুও ভোলেননি।কোথায়ও আবার স্বামী, স্ত্রী র অভিন্ন হৃদয় বোঝাতে তিনি পান, খয়েরের কথা বলেছেন।ঈশ্বর গুপ্তের কবিতায় বাঙালির চিরপরিচিত বহুবিধ খাদ্যের কথা স্থান পেয়েছে।ভাত,অড়হর ডাল, ছোলা, মুসুর, মুগ, খেসারি,আলু,বেগুন,মূলো,লাউ, ফুলকপি, কুমড়ো,
পালং, আম,আমড়া,তপসে মাছ,গলদা চিংড়ি, ভেটকি, রুই,পাঁঠার মাংস,কচ্ছপ মাংস ইত্যাদি খাবার যা দিয়ে বাঙালি তার উদর পরিতুষ্টি করে তাই ঈশ্বর গুপ্ত তাঁর কাব্যে ব্যবহার করে বাঙালিয়ানার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।
গ্রাম বাংলার জীবন মানুষ ও নিসর্গ প্রকৃতির উভয় দিকই ফুটে উঠেছে ঈশ্বর গুপ্তের পদ্যে।তাঁর কাব্যে বাংলার পক্ষীকুলের ছড়াছড়ি শালিখ, টিয়া, বক,পেঁচা,কাক,ফিঙে,বুলবুলি ইত্যাদি সব পাখি উঠে এসেছে তাঁর হাত ধরে ।শুধু কি তাই বাংলাদেশের সাপের কথাও তাঁর কবিতায় রয়েছে গোখরো, বোড়া ,হেলে,ঢ়োড়া প্রায়ই তাঁর কবিতায় স্থান পেয়েছে।পল্লী বাংলায় পোকামাকড়ের উপদ্রবের কথা পল্লীবাসী মাত্রই জানা।ঈশ্বর গুপ্ত লিখেছেন ছারপোকা,মশার কামড়ে নিদ্রার বদলে চাপর মেরেই চলতে হয়।
ঈশ্বর গুপ্তের সমকালে বাঙালিদের মধ্যে কোনো সংস্কৃতির চর্চা ছিল না।যে চর্চা ছিল তা অপসংস্কৃতি ছাড়া কিছুই নয়।তখন ছিল কবিয়ালদের যুগ।ব্যক্তিগত শিক্ষার অভাব অর্থাৎ জাতীয় অশিক্ষা এবং জনরুচির প্রভাবে কবিয়ালরা অশ্লীল গান করতে বাধ্য হতেন।কারণ সেই সময় কবিতার পৃষ্টপোষক ছিলেন বণিক সম্প্রদায়গণ ।তাই গুপ্ত কবির কবিতাগুলো যে অশ্লীলতা দোষে দুষ্ট তার জন্য আমরা কবিকে যত না দায়ী করতে পারি তার থেকে বেশি দায়ী করতে পারি তৎকালীন বাঙালির রুচিকে।ঈশ্বর গুপ্তের কবিতা এই অশ্লীলতা ধর্মের জন্যই তৎকালীন বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী।
শহরের বাঙালিদের সামাজিক উৎসব গুলি তিনি বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে তাঁর কাব্যে তুলে ধরেছেন। “হুতুমিতার নকশায়” তিনি উনিশ শতকের উঠতি বাবুদের হাঁড়ির খবর জানিয়েছেন।আবার “শারদবর্ণন” কবিতায় তিনি তৎকালীন বাবু সমাজের দূর্গাপুজার ঘটার কথা সুনিপুণ ভাবে তুলে ধরেছেন।
ঈশ্বর গুপ্ত তাঁর কবিতায় বাঙালির ঘরের কথা এমন নিঁখুত ভাবে তুলে ধরেছেন যে তাঁকে খাঁটি বাঙালি কবি বলতেই হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল চুরি করে বেআইনিভাবে বিক্রি করার অভিযোগে বিজেপি এবং তৃণমূলের এক সংঘর্ষ

প্রদীপ মজুমদার, নদীয়াঃ সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল চুরি করে বেআইনিভাবে বিক্রি করার অভিযোগে বিজেপি এবং তৃণমূলের এক সংঘর্ষ। গুলি লেগে আহত দুই...

পুলিশের অত্যাচারে হাইকোর্টের শরণাপন্ন কৃষক পরিবার

প্রদীপ মজুমদার, নদীয়াঃ পুলিশের অত্যাচারে হাইকোর্টের শরণাপন্ন কৃষক পরিবার।এরপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকায় পুলিশ সুপারের কাছে শরণাপন্ন পরিবার। পুলিশের ভয়ে ও আতঙ্কে...

স্ত্রীর মাথায় কুড়ুল দিয়ে কোপ মেরে হত্যা

মোহাম্মাদ শাহজাহান আনসারী, বাঁকুড়া:- রাগের মাথায় মানুষ কি করতে পারে তার একটি প্রমাণ আজ বাঁকুড়ার শালতোড়া এলাকায় পাওয়া গেল । জানা যায়...