20, Jan-2021 || 03:33 pm
Home কলকাতা বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ভোটসঙ্গী হতে পারে আরপিআই(এ)

বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ভোটসঙ্গী হতে পারে আরপিআই(এ)

হীরক মুখোপাধ্যায় (২৫ নভেম্বর ‘২০):- বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাথে গাঁটছড়া বেধে নির্বাচনী ময়দানে নামতে পারে আম্বেদকর পন্থী দল ‘রিপাবলিকান পার্টি অব ইণ্ডিয়া (আথাওয়ালে)’।

১৯৫৭ সালের ৩ অক্টোবর জন্ম হয়েছিল ‘রিপাবলিকান পার্টি অব ইণ্ডিয়া’-র। পরে ১৯৯০ সালের ২৫ মে পুরনো দল থেকে বেরিয়ে এসে তৈরী হয় নতুন দল ‘রিপাবলিকান পার্টি অব ইণ্ডিয়া (আথাওয়ালে)’।

রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা অনুযায়ী, রাজনৈতিক সমীকরণ ঠিকঠাক এগোলে, বিজেপি-র বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও উপজাতি ভুক্ত সমাজকে ক্ষেপিয়ে তোলা এবার তৃণমূলের পক্ষে আর সম্ভব হবেনা।

গত লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই এই রাজ্যে তফশিলি জাতি ও উপজাতি ভুক্ত সমাজের অলিখিত সদর কার্যালয় ‘মতুয়া ঠাকুরবাড়ি’-র উপর কব্জা করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি-র পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ শাখা।
কিন্তু বর্তমানে এখানে পুনরায় তৃণমূল কংগ্রেসের চোরা স্রোত বইতে থাকায় এবার আসরে নামানো হতে পারে, রিপাবলিকান পার্টি অব ইণ্ডিয়া (আথাওয়ালে)-কে, এমনই খবর এখন হাওয়ায় ভাসছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের সমাজ কল্যাণ ও সশক্তিকরণ বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী রামদাস বন্ধু আথাওয়ালে আরপিআই(এ) দলেরই নির্বাচিত সদস্য। মহারাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত শ্রী আথাওয়ালে বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য।

সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে ভারতীয় জনতা পার্টি-র বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শান্তনু ঠাকুর দল থেকে নিজেকে কিছুটা সরিয়ে রেখেছেন। রাজনীতিতে চূড়ান্ত অনভিজ্ঞ এই সাংসদ নিজেও জানেননা, দলীয় রাজনীতি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে তিনি নিজেই নিজের কতটা ক্ষতি করছেন। সাম্প্রতিক অতীতে তিনি যেমন বিজেপির দলীয় অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন, তেমনই যেতে চাননি আরএসএস অনুগামী বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠানে। বলার অপেক্ষা রাখে না শান্তনু ঠাকুরের এই আচরণ ভালো চোখে দেখেনি রাষ্ট্রীয় সমাজ সেবক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব। এরকমই কিছু বিক্ষিপ্ত কারণেই হয়তো এবার বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গ বিজেপি-র সঙ্গী রূপে নির্বাচনী ময়দানে দেখা যেতে পারে রিপাবলিকান পার্টি অব ইণ্ডিয়া(এ)-র পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ শাখাকে।

আরপিআই(এ)-র পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ শাখা ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে তাদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। আগামী ১৫ তারিখ পশ্চিমবঙ্গে সফরে আসাবেন দলের অধ্যক্ষ।
এখনো পর্যন্ত যতটা খবর, অধ্যক্ষর সাথে চূড়ান্ত কথা হয়ে যাওয়ার পর থেকেই থেকেই রাজ্যে কাজ শুরু করবে আরপিআই(এ)-র বুদ্ধিজীবি প্রকোষ্ঠ।

বিভিন্ন সূত্র থেকে এখনো পর্যন্ত যে খবর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আরপিআই(এ)-র জাতীয় অধ্যক্ষর উপস্থিতিতে দলে যোগদান করতে পারেন সহস্রাধিক ব্যক্তি। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে দলীয় তরফে কর্ম তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে।

সংবাদমাধ্যম এটাও জানতে পেরেছে? আরপিআই(এ) দলের প্রদেশ নেতৃত্ব আজ সল্টলেকে বসে এই সংক্রান্ত বিষয়ের আংশিক রূপরেখাও তৈরি করে ফেলেছেন।

তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত অনেক বুদ্ধিজীবীরাই আজ তলায় তলায় দলের উপর বীতশ্রদ্ধ। যতদূর শোনা যাচ্ছে- প্রজাতন্ত্রী, আম্বেদকরপন্থী, ধর্মনিরপক্ষে এই রাজনৈতিক দল প্রথমেই তৃণমূল কংগ্রেসের বুদ্ধিজীবী সমাজের বিক্ষুব্ধ অংশকে ভাঙিয়ে নিজেদের দিকে নিয়ে আসতে চলেছে।

কলেজে শিক্ষকতা করতে গেলেও আজ দিতে হয় লক্ষ লক্ষ টাকা নজরাণা, হাসপাতালে চিকিৎসা বিভ্রাট, রেশন দুর্নীতি, বাজার অগ্নিগর্ভ, বেরোজগারে ছেয়ে গেছে রাজ্য। এই সময় কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো নেতার কথাই শুনতে চাইবেনা রাজ্যবাসী। তাই দলীয় সংগঠনের তরফে ঠিক হয়েছে, বুদ্ধিজীবীদের সামান্য অংশকে সামনে মুখ হিসেবে দেখানো হবে, বাকি অংশ লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে নিঃশব্দে মানুষকে প্রভাবিত করবেন।

আরপিআই(এ) সত্যি যদি বিজেপি-র সাথে মিলিত হয়ে এবার নির্বাচনী ময়দানে নামে, তাহলে শুধুমাত্র দলিত ভোট ছিনিয়ে নিয়েই তৃণমূল কংগ্রেস-এর বাড়া ভাতে ছাই ফেলতে সমর্থ হবে।
পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে বেশ কয়েকটা বিধানসভা ক্ষেত্র রয়েছে যা তফশিলি জাতি ও উপজাতি প্রধান, আবার বেশ কিছু বিধানসভা ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে তফশিলি জাতি ও উপজাতি ভুক্ত মতদাতারাই নির্ণায়ক ভূমিকা নেবেন। সেক্ষেত্রে বেছে বেছে শুধুমাত্র এই বিধানসভা কেন্দ্রগুলোতে আরপিআই(এ)-কে প্রাধান্য দিলে মা মাটি মানুষের এই সরকার উল্টোতে সময় লাগবেনা, এমনই ধারণা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহলের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

বিধানসভা ভোটের আগে প্রথম সাংবাদিকদের নিয়ে বৈঠক নদীয়া জেলা শাসকের।

প্রদীপ মজুমদার, নদীয়াঃ বেজে গেল ২০২১ সালের সাধারণ নির্বাচনের নির্ঘন্ট। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কারা কারা পাবেন পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা? এপিক সংক্রান্ত সুবিধা-অসুবিধা...

বিজেপি মাওবাদীদের থেকেও ভয়ঙ্কর: মমতা

বাপ্পা রায়, পুরুলিয়া, ১৯ জানুয়ারি :- বিজেপি মাওবাদীদের থেকেও ভয়ঙ্কর পুরুলিয়ায় এসে এভাবেই কেন্দ্রের শাসক দলকে সরাসরি আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা...

বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির চেয়ারপার্সন এবং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে স্মারকলিপি

মোহাম্মাদ শাহজাহান আনসারী, বাঁকুড়া:-বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আহ্বানে চেয়ারপার্সন এবং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয় । শিক্ষা ও শিক্ষক...

সন্ত্রাস করে বি জে পিকে আটকানো যাবে না

মোহাম্মাদ শাহজাহান আনসারী, বাঁকুড়া:-যেমন যেমন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ক্ষণ এগিয়ে আসছে এই রাজ্যে রাজনৈতিক দলগুলি তাদের সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়ে...