02, Dec-2020 || 09:45 pm
Home জেলা বিশিষ্ট প্রবাসী সাহিত্যিক অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের ছন্দপতন ঘটল

বিশিষ্ট প্রবাসী সাহিত্যিক অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের ছন্দপতন ঘটল

অর্পিতা সিনহা, বাঁকুড়া (১৮ নভেম্বর,২০২০):-বাংলা সাহিত্যের জগত হারলো আরও এক বিশিষ্ট কবি প্রতিভাকে। জার্মানিতে রাইন নদীর তীরে মঙ্গলবার রাতে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন ৮৭ বছর বয়সী কিংবদন্তি প্রবাসী কবি, সাহিত্যিক ও অনুবাদক অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। সুদূর জার্মানি থেকে এই দুঃসংবাদ বাংলাতে পৌঁছানো মাত্রই হেমন্তের রাতে বাংলা সাহিত্যের জগতে যেন আরও একবার বেদনার সুর বেজে উঠল।

কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত ৬ই অক্টোবর  ১৯৩৩ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। প্রথম জীবনে তিনি  শান্তিনিকেতনে লেখাপড়া শুরু করেন তারপর সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ভারতীয় কবিতার শব্দ মালা নিয়ে অর্থাৎ ভারতীয় গীতি নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত  কিছুদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার কাজে নিযুক্ত ছিলেন। তখন থেকেই তাঁর জার্মান সাহিত্যের প্রতি প্রবল আগ্রহ জন্মায়।এরপরেই তিনি জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে যান। সেখানে গিয়ে তিনি এক আশ্চর্য কান্ড ঘটান। তিনি  জার্মানিতে বাংলা ও জার্মান সাহিত্যের মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। তিনি যেমন বাঙালিকে জার্মান সাহিত্য সম্পর্কে অবগত করান তেমনি জার্মানীদের   কাছেও বাংলা সাহিত্যকে অনুবাদের মাধ্যমে পৌঁছে দেন।কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত  জার্মানির বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান" ডয়েশ ইনডিশ গ‍্যাসেলশ‍্যাফট" সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন ভারত ও জার্মানির সম্পর্ককে আরও গভীর যোগসূত্রে বাঁধার জন্য।এই কাজের জন্য জার্মান সরকার তাঁকে 'গ‍্যেটে' পুরস্কারে সম্মানিত করেছিলেন। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে তাঁর হৃদয়ের ঘনিষ্ঠ মেলবন্ধন থাকায় জার্মানিতে বসেই তিনি বাংলা ভাষায় ২০ টি কাব্যগ্রন্থ লিখেছিলেন। সাঁওতালি ভাষাতেও তিনি  কবিতা ও নাটক লিখেছিলেন। তাঁর কবিতায় নিজস্ব আঙ্গিকের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।তাঁর কবিতাগুলির বিষয়বস্তু তে প্রকৃতি থেকে সমকালীন সময়ের সমস্ত কিছু স্থান করে নিয়েছিল। তিনি ১৯৯২ সালে"দ‍্য মিস্টিক‍্যাল স অ‍্যান্ড আদার পোয়েমস" এর অনুবাদ "মরমী করাত" কাব্যগ্রন্থের জন্য "সাহিত্য অ‍্যাকাডেমি" পুরস্কার পান। এই কাব্যগ্রন্থই তাঁকে প্রবাসী ভারতীয় সাহিত্যিকের সম্মান এনে দিয়েছিল।এছাড়াও তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার ও আনন্দ পুরস্কার পেয়েছিলেন। তরুণ প্রজন্মর সঙ্গেও ছিল তাঁর অদ্ভুত সখ‍্যতা।  প্রবাসী কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত তরুণ দের মনোভাব  সহজেই বুঝে নিয়ে তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ফেলতেন এবং তাঁদের কবিতা লেখার আগ্রহকে  অনুপ্রাণিত করতেন।তিনি তাঁর সাহিত্যের মাধ্যমেই বাঙালির  হৃদয়ে চিরস্মরণীয়  হয়ে থাকবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

এবার জৌলুসহীন রাস যাত্রা নদীয়ার শান্তিপুরে, হবেনা শোভাযাত্রা, নেই রাই রাজা ও

প্রদীপ মজুমদার, নদীয়া: রাত পোহালেই শান্তিপুরের ভাঙ্গা রাস। আর এই ভাঙ্গা রাস ই এবার জৌলুসহীন। শোভাযাত্রা বন্ধ নেই রাই রাজা ও। নগর...

দুয়ারে দুয়ারে সরকারকে মরণকালে হরিনাম বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু

প্রদীপ মজুমদার, নদীয়া : রাজ্য সরকারের প্রকল্প 'দুয়ারে সরকার' কে মরণ কালে হরিনাম বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু। মঙ্গলবার...

আবেদনের দীর্ঘদিন পরেও উজালা যোজনার গ্যাস সিলিন্ডার না পেয়ে বিক্ষোভ হাসনাবাদে

সৌরভ দাশ, হাসনাবাদ: দীর্ঘদিন আগে উজালা গ্যাস যোজনার গ্যাসের আবেদন করলেও এখনো মেলেনি গ্যাস,এমনকি এলাকার ভারত গ্যাস ব্যবহার কারীরাও সিলিন্ডার ফুরিয়ে গেলে...

টাকী তে সাংগাঠনিক বৈঠক বিজেপি মহিলা মোর্চার

সৌরভ দাশ, টাকী: আসন্ন ভোটে মহিলা মোর্চার স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতেমঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চার পরিচালনায় বসিরহাট সাংগাঠনিক জেলার মহিলা মোর্চার উদ্দ্যোগে টাকী...