02, Dec-2020 || 09:50 pm
Home কলকাতা করোনা মোকাবিলার সৈনিক ডাঃ নির্মল মাঝি পেলেন রাষ্ট্রপুঞ্জে-এর সম্মান

করোনা মোকাবিলার সৈনিক ডাঃ নির্মল মাঝি পেলেন রাষ্ট্রপুঞ্জে-এর সম্মান

ঈশানী মল্লিক, কোলকাতাঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বান্দ্যেপাধ্যায় ও তাঁর একনিষ্ঠ সৈনিকের কর্মকান্ডের সামিল এখন গোটা রাজ্য। প্রায় ৭ মাস ধরে আমরা করোনা ভাইরাসের আবহে আচ্ছন্ন। ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীরা মুখে মাস্ক, পিপিই কিট , হাতে গ্লাভস পরে কিভাবে মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করে চলেছেন তা না দেখলে বিশ্বাস করার নয়। ইতিমধ্যেই বহু চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বহু কোভিড রোগীর মৃত্যু হয়েছে। প্রসঙ্গত, ভালো হয়েছেন অনেকেই।ভ্যাকসিন কবে সাধারণের জন্য বাজারে আসবে তা নিয়ে জল্পনা রয়েই গেছে। তবু থেমে থাকেনি আমাদের রাজ্য। মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে কোরোনার মোকাবিলা করে চলেছেন। তাঁর পাশাপাশি যে নামটি না বললেই নয় তিনি ডাঃ নির্মল মাঝি। করোনা রাজ্যে আসার প্রথম দিন থেকে তিনি এই যুদ্ধে সামিল থেকেছেন। হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি উন্নত পরিকাঠামো তৈরী ও করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রত্যেকটি হাসপাতালে অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা, তাদের ভাল চিকিৎসা ব্যবস্থা ও হাসপাতালে ভর্তি এমনকি অন্যান্য রোগীরা যাতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি এসে এই নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সেই দিকেও খেয়াল রেখেছেন। কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বছর ৭০ এর বৃদ্ধা প্রতিমা দে। তিনি করোনাকে হারিয়ে বাড়ি যাওয়ার আগে জানিয়েছেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্যরা তার দেখভাল না করলে তিনি সুস্থ হয়ে আবার বাড়ি ফিরতে পারতেন না। শুধু এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের প্রবীণতম নাগরিক ৯৪ বছরের করোনা আক্রাক্ত রোগী সুস্থ হয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে। যে সমস্ত করোনা যোদ্ধারা এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন, তাদের শুধু বিনামূল্যে চিকিৎসাই নয়, তারা সুস্থ হয়ে ওঠার পর মুখ্যমন্ত্রী ও ডাঃ মাঝির প্রচেষ্টায় তারা হাসপাতালের গাড়ি করেই বাড়ি ফিরতে পারছেন। এই ব্যবস্থাও সরকার করেছে। এই কোরোনার আবহে রাজ্যের শ্রম মন্ত্রী তথা রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিল এর সভাপতি, প্রোগ্রেসিভ ডক্টরস এসোসিয়েশন এর সভাপতি ও  কলকাতা মেডিকেল কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ডাঃ মাঝি বহু জায়গায় ক্যাম্প করে মাস্ক, স্যানিটাইজার ও দীর্ঘদিন লকডাউনের দরুন মানুষের খাওয়া দাওয়ার যাতে অসুবিধা না হয় সেই কারণে চাল, ডাল, চিনি ও নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিস পৌঁছে দিয়েছেন। নিজেদের প্রাণের পরোয়া না করেই লড়ে গেছেন সবাই। তার একটাই স্লোগান, “হারবে করোনা, জিতবে বাংলা”.একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম কর্মী স্বভাবতই লকডাউনের মাঝে ছুটি পায়নি। তাদের রোজ-ই খবর-এর তাগিদে এ প্রান্ত থেকে ওপর প্রান্তে যেতে হয়েছে। লকডাউনে কাজ করার কিছুদিন পর তার শরীর অস্বস্তি করা, বমি হওয়া , মাথা ব্যথা ও দুর্বলতার উপসর্গ দেখা যায়। তৎক্ষণাৎ তার টেস্ট করা হলে তিনি পসিটিভ ধরা পড়েন। এই অবস্থায় ডাঃ মাঝি সেই সাংবাদিককে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করান ও তার চিকিৎসা হয়ে তিনি সুস্থতার সঙ্গে বাড়ি ফিরে আসেন।স্বাস্থ্য দফতর যথা সম্ভব এই পরিস্থিতিকে কায়েম যাতে করতে পারে তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও তার সৈনিক ডাঃ মাঝির অবদান অনসীকার্য। ডাঃ মাঝির এই নিরলস কর্মকান্ডের জন্য তাকে ইউনাইটেড নেশন ওয়ার্ল্ড পিস হিউম্যান রাইটস মিশন “গ্লোবাল হিউম্যানিটি অ্যাওয়ার্ড ২০২০”-তে ভূষিত করেছে।এর পরেই হঠাৎ ডাঃ মাঝি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মাথায় রক্তক্ষরণের জন্য কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হন। অস্ত্রোপচার হয়। সকলের আশীর্বাদ-এ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়ার পরই আবার বাড়ি থেকে হাসপাতালগুলিতে তদারকি করা সবই করেন। বাইরে গিয়ে একদিন সভাও করেন। তারপরই আবার তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তিনি টেস্ট করান ও রিপোর্ট পসিটিভ আসে। এরপর কলকাতা মেডিকেল কলেজের সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিং-এ ভর্তি হন তিনি। ওখানেই দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি কোরোনাকে হার মানিয়ে গতকাল বাড়ি ফেরেন। তবে হাসপাতালে শুধু রোগীর মতো তিনি ছিলেন না। বিভিন্ন সময় কেবিনের বাইরে এসে তিনি স্বাস্থ্য পরিষেবা কেমন, রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছেন কিনা, সবাইকে সময় মতো ভাল খাবার দেওয়া হচ্ছে কিনা তা নিজেই খতিয়ে দেখেন ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। গতকাল হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় তিনি একটাই কথা বলেন, “জিতবে বাংলা, হারবে করোনা।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

এবার জৌলুসহীন রাস যাত্রা নদীয়ার শান্তিপুরে, হবেনা শোভাযাত্রা, নেই রাই রাজা ও

প্রদীপ মজুমদার, নদীয়া: রাত পোহালেই শান্তিপুরের ভাঙ্গা রাস। আর এই ভাঙ্গা রাস ই এবার জৌলুসহীন। শোভাযাত্রা বন্ধ নেই রাই রাজা ও। নগর...

দুয়ারে দুয়ারে সরকারকে মরণকালে হরিনাম বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু

প্রদীপ মজুমদার, নদীয়া : রাজ্য সরকারের প্রকল্প 'দুয়ারে সরকার' কে মরণ কালে হরিনাম বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু। মঙ্গলবার...

আবেদনের দীর্ঘদিন পরেও উজালা যোজনার গ্যাস সিলিন্ডার না পেয়ে বিক্ষোভ হাসনাবাদে

সৌরভ দাশ, হাসনাবাদ: দীর্ঘদিন আগে উজালা গ্যাস যোজনার গ্যাসের আবেদন করলেও এখনো মেলেনি গ্যাস,এমনকি এলাকার ভারত গ্যাস ব্যবহার কারীরাও সিলিন্ডার ফুরিয়ে গেলে...

টাকী তে সাংগাঠনিক বৈঠক বিজেপি মহিলা মোর্চার

সৌরভ দাশ, টাকী: আসন্ন ভোটে মহিলা মোর্চার স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতেমঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চার পরিচালনায় বসিরহাট সাংগাঠনিক জেলার মহিলা মোর্চার উদ্দ্যোগে টাকী...