খাদিমুল ইসলাম ,বানারহাট:- সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগ ধূপগুড়ি শহরে।প্রশ্নের মুখে পুলিশ ও ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের ভূমিকা। উল্লেখ্য এর আগেও একবার এই জায়গা ভরাটের চেষ্টা করেছিলো। পেছনে জমি ও বালি মাফিয়া দের হাত।তখন আইনি পদক্ষেপ নিলেও শেষরক্ষা হল না রাতের অন্ধকারে ফের বালি ফেলে ভরাট করা হল সরকারি জায়গার নয়নজুলি। সব দেখেও কেন চুপ প্রশাসন?
ধূপগুড়ি স্টেশন মোড় সংলগ্ন এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ নম্বর সড়কের পাশে থাকা নয়নজুলি আগেই বালি ফেলে ভরাটের চেষ্টা করেছিল বালি মাফিয়ারা। তখন স্থানীয়দের প্রতিবাদে পুলিশ একটি গাড়ি আটক করে এবং জমির মালিক টুকাই ঘোষ ও গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও, সোমবার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে অভিযুক্তরা আবার রাতের অন্ধকারে প্রায় ২৫–৩০ ডাম্পার বালি ফেলে নয়নজুলি ভরাট করে বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন, সম্পূর্ণ নয়নজুলিটি বালি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই আশপাশের জমিতে জল জমতে শুরু করেছে। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বর্ষা শুরু হলে গোটা এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়তে পারে।
এই ঘটনায় বড় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। স্টেশন মোড় এলাকায় পুলিশের ট্রাফিক নাকা চেকিং পয়েন্ট থাকার পরেও কীভাবে রাতারাতি এত বড় ভরাট কাজ হল, তা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমিতা বন্দোপাধ্যায় আগেই সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না বলেই অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ রায়ের অভিযোগ, পুলিশ, প্রশাসন থেকে শুরু করে জাতীয় সড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ সবাই বিষয়টি জানে, কিন্তু কার্যত নীরব। তাঁর দাবি, “এখনই বালি না সরালে বর্ষায় ভয়াবহ জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হবে।”
অন্যদিকে ননীগোপাল সরকারের অভিযোগ, রাজনৈতিক মদতেই এই ধরনের বেআইনি কাজ চলছে।পুলিশ নাকা চেক পোস্টের সামনে রাতের অন্ধকারে সরকারী জায়গা দখল হয় কি করে তাদের মদত না থাকলে।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ ধরনের বেআইনি কাজের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।”
পরিবেশপ্রেমী ও শিক্ষক গুনময় ব্যানার্জী সতর্ক করে বলেন, একের পর এক নয়নজুলি ও জলাভূমি ভরাট হলে এলাকার বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জলজ প্রাণী, কীটপতঙ্গ ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে ধূপগুড়ি থানার আইসি প্রশান্ত চাম্বলিং জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধূপগুড়িতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নয়নজুলিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে।


