29, Oct-2020 || 12:52 pm
Home বিনোদন গ্রে হাউন্ড

গ্রে হাউন্ড

ঋদ্ধি ভট্টাচার্য, কোলকাতা:- সম্প্রতি অ্যাপেল প্লাসে মুক্তি পেয়েছে একটি সিনেমা, যার নাম ‘গ্রে হাউন্ড’। সিনেমাটিতে আছেন আমার অত্যন্ত প্রিয় অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস। সত্যি কথা বলতে গেলে মূলত এই মানুষটির জন্যই সিনেমাটি দেখার আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। আর মজার ব্যাপার হলো যে সিনেমাটির গল্পটিও এনারই লেখা। যাই হোক, আমার এই টম হ্যাঙ্কস প্রীতির আরেকটি কারণ হলো এনার অতীতের কিছু সিনেমা যেমন- কাস্ট অ্যাওয়ে, ফরেস্ট গাম্প, সেভিং প্রাইভেট রায়ান ইত্যাদি। তাই অনেক দিনের অপেক্ষার পরে কাল রাতে সিনেমাটি দেখে নিলাম। তাহলে এবার প্রশ্ন আসছে যে সিনেমাটি কেমন লাগলো? হ্যাঁ, সেই প্রসঙ্গে আসছি। তবে তার আগে সিনেমাটির গল্প নিয়ে একটু কিছু বলে নেওয়া ভালো।
গল্পঃ সময়টা দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের আশেপাশে। র্আনেস্ট অর্থাৎ টম হ্যাঙ্কস একজন ইউ এস নেভি কমান্ডারের পদে কর্মরত অফিসার এবং তিনি লিড করছেন তার প্রথম ইন্টারন্যাশেনাল কনভয় কে।এবার যুদ্ধের সিনেমা দেখার সূত্রে অনেকেই হয়ত ব্যাপারগুলো বোঝেন, তবে আলোচনার সুবিধার জন্য জানিয়ে রাখি যে কনভয়ে মূলত অনেকগুলি জাহাজ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় একসাথে ট্রাভেল করে এবং এদের প্রোটেক্ট করে কিছু ফাইটার্স প্লেন। ঠিক সেরকমই এই সিনেমাতেও র্আনেস্টের মিশন হলো যেভাবেই হোক তার কনভয় কে ইংল্যান্ডে সুস্থ ভাবে পৌছে দেওয়া। এবার এই গল্পে টুইস্ট তখন আসে যখন এই কনভয়কে অ্যাটাক করে গভীর সমুদ্রে লুকিয়ে থাকা জার্মান নাৎসী সাবমেরিন। এবার দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টা এয়ার সার্পোট ছাড়া এই কনভয় কিভাবে জার্মান সাবমেরিনদের সাথে জীবন-মৃত্যুর লড়াই করে চলে সেই নিয়েই ১ ঘন্টা ৩৬ মিনিটের গ্রে হাউন্ড সিনেমাটি বানানো হয়েছে।
ভালো /খারাপঃ আগেই বলেছি যে ছবিটির মুখ্যচরিত্রে আছেন টম হ্যাঙ্কস এবং এনার অভিনয় নিয়ে কথা বলার মত যোগ্যতা আমার নেই। অন্যান্য সিনেমার মত এই সিনেমাতেও তিনি তার সেরাটা দিয়েছেন। সিনেমার ভালো দিক বলতে গেলে এর ফাস্ট পেসের স্ক্রিন-প্লে, সিনেমাটিতে কন্টিনিউ একটা যুদ্ধের আবহাওয়া বজায় থাকে এবং সেটিকে খুব সুন্দর ভাবে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে।সিনেমায় কিছু ইন্টেন্স ব্যাটেল সিকুয়েন্স আছে যা আপনার চোখের পলক ফেলতে দেবে না। এছাড়াও সিনেমায় দেখানো হয়েছে যে সেসময় উন্নত প্রযুক্তি না থাকার কারনে যুদ্ধক্ষেত্রে কি রকম সমস্যা হয়ে থাকতো। এই সবকিছুই আমার বেশ ভালো লেগেছে।
এর বাইরে সিনেমার খারাপ দিক বলতে গেলে তেমন কিছু নেই, তবে একটা জিনিস নিয়ে অভিযোগ আছে সেটা হলো এর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট। সিনেমাতে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের নামমাত্র নেই, যার ফলে দর্শকেরা সিনেমার চরিত্রদের সাথে ইমোশনালি কানেক্ট হতে পারে না। এছাড়া সিনেমাটিকে রিয়েলেস্টিক করার জন্য ডাইরেক্টরের ৯০% ডায়লগ কম্যান্ডিং অফিসারের কম্যান্ড ব্যবহার করেছেন যেগুলি স শিপের ক্যাপ্টেন তার সহযোগী সৈন্যদের দেওয়া হয় যার ফলে সাধারণ দর্শকদের কাছে সেগুলো বুঝে ওঠা অসম্ভব হয়ে যায়।
বাকি সিনেমার সবকিছুই বেশ ভালো। যুদ্ধের সিনেমা দেখতে পছন্দ করা দর্শকদের কাছে এটি একটি ভিশ্যুয়াল ট্রিটের মতো। তাই হাতে সময় থাকলে নিশ্চয়ই এই সিনেমাটা একবার দেখতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল-এর জন্মতিথি থেকে আহমেদাবাদ ও কেভাডিয়া-র মধ্যে চালু হচ্ছে সিপ্লেন পরিষেবা

হীরক মুখোপাধ্যায় (২৮ অক্টোবর '২০):- আগামী ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল-এর জন্মতিথিকে স্মরণে রেখে আহমেদাবাদ-এর 'সবরমতী নদী' থেকে গুজরাতে অবস্থিত কেভাডিয়া-র 'স্ট্যাচু...

প্রতিবাদ দিবস পালন করতে গিয়ে তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের আক্রমণের শিকার ভারতীয় মজদুর সংঘ-র প্রদেশ নেতৃত্ব

হীরক মুখোপাধ্যায় (২৮ অক্টোবর '২০):- কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমিক বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে আজ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেস...

অবস্থান বিক্ষোভ শ্রমিকদের

মলয় সিংহ, বাঁকুড়া :একাধিক দাবি দাওয়া নিয়ে বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের হাটআসুড়িয়ায় কালিমাতা ভেপার প্রাইভেট লিমিটেড নামে রেলের যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানার সামনে অবস্থান...

নারীর ক্ষমতায়ন:

অর্পিতা সিনহা,বাঁকুড়া(২৭অক্টোবর): বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের জয়যাত্রা পেরিয়ে একবিংশ শতাব্দীতে জ্ঞান বিজ্ঞানের আলোকে আজ আমরা অনেকটাই পরিপূর্ণতা লাভ করেছি। সভ্যতার যে অগ্রগতি ও...