29, Oct-2020 || 12:28 pm
Home কলকাতা আনদেখি

আনদেখি

ঋদ্ধি ভট্টাচার্য,কোলকাতা:- সিদ্ধার্থ সেনগুপ্তা এর আগে অল্ট বালাজীর ‘অপহরণ’ সিরিজটি পরিচালনা করেছিলেন। সত্যি কথা বলতে ‘অপহরণ’ সিরিজটি আমার বেশ ভালো লেগেছিল তবে শুরু যেভাবে হয়েছিল সিরিজটির শেষটা অতটাও ভালো ভাবে পরিবেশন করতে পারেননি পরিচালক। এবার তার পরিচালনায় বাজারে এসেছে সোনি লিভের ‘আনদেখি’ সিরিজটি। তো দেখে নেওয়া যাক সিরিজটি কেমন লাগলো।

গল্প- ‘আনদেখি’র গল্প এর টাইটেলের সাথে বেশ মানানসই কারন আনদেখি অর্থাৎ যা কেউ দেখেনি।সেরকমই এই সিরিজে যে পরিবারের কথা বলা হয়েছে, সত্যি বলতে এরকম পরিবারও কেউ দেখেনি।
গল্প শুরু হচ্ছে হিমাচল প্রদেশের মানালি থেকে যেখানে অটওয়াল পরিবারের ছেলে দমনের বিয়ে হচ্ছে এয়ার হেড কোয়ার্টারের ডাইরেক্টর মিস্টার গারেওয়ালের মেয়ে তেজির সাথে। আটওয়াল পরিবারের বড়ো কর্তা যাকে সবাই পাপাজী বলে ডাকে এনার সমাজকে দেখানোর জন্য টিম্বারের ব্যাবসা থাকলেও ইনি আসলে ব্যাবসার আড়ালে সমাজ বিরোধী কাজকর্ম করে থাকেন যার দৌলতে পুলিশ, নেতা, মন্ত্রী সকলেই এনার আন্ডারে কাজ করে। এনার পুরো ব্যাবসা সামলায় গল্পের দ্বিতীয় চরিত্র রিংকু। রিংকুর অটওয়াল পরিবারের সাথে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও পাপাজীর কাছে রিংকু নিজের ছেলে থেকেও বড়। এর আরেকটা কারণ হচ্ছে এই যে পাপাজীর নামে ব্যাবসা চললেও পুরো মানালি রিংকুর নাম শুনে কাঁপে। গল্পের তৃতীয় চরিত্র ডি এস পি ঘোষ। ইনি একজন সৎ পুলিশ অফিসার এবং ক্রিমিনালদের শাস্তি দেওয়ার জন্য পুরো সিস্টেমের বিরোধিতা করার সাহস রাখেন।
গল্পে টুইস্ট তখন আসে যখন ওয়েস্ট বেঙ্গলের সুন্দরবনে এক পুলিশ অফিসারের অদ্ভুতভাবে মার্ডার করা হয় এবং ডি এস পি ঘোষ এই তদন্ত করতে করতে সুন্দরবন থেকে মানালি চলে আসেন।
এর মধ্যে অটওয়াল পরিবারের বিয়ের পার্টিতে আসা এক ডান্সারকে সবার সামনে মাথায় গুলি করে হত্যা করে এক অজানা জায়গায় পুঁতে দেওয়া হয় এবং সবাই সবকিছু দেখেও চোখে কালো কাপড় ও মুখে তালা লাগিয়ে চুপ করে থাকে।
সুন্দরবনের পুলিশের খুন ও পার্টিতে আসা ডান্সারের খুন এই দুটি ঘটনার মধ্যে আদেও কি কোনো সম্পর্ক আছে? ডি এস পি ঘোষ কি পারবে এই রহস্য থেকে পর্দা তুলতে? না তার মুখও টাকা আর ক্ষমতার চাপে বন্ধ হয়ে যাবে। মানালির এত বড়ো একটা বিয়ে কিভাবে ক্রাইম স্পট হয়ে গেল ? সত্যিই কি এটা কোনো অঘটন ছিলো? না এর পিছনে আছে কোনো অতিরিক্ত টাকা পয়সা ও ক্ষমতার নেশায় মত্ত মানসিক ব্যাধিগ্রস্ত মানুষ যার কাছে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো দাম নেই। এই সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কাজ করে সোনি লিভের ‘আনদেখি’।
ভালো /খারাপঃ সিরিজের প্রতিটি এপিসোডে নতুন কিছু ঘটনা সামনে আসতে থাকে এবং থ্রিলার আর পাগলামোর কম্বিনেশনে আপনাকে গল্পের মধ্যে শুরু থেকে শেষ অবধি বেধে রাখে। সিরিজে খুব ভালো ভাবে দেখানো হয়েছে যে বিচার ও আইনব্যবস্থার জোরে আপনি যতই বড়ো লড়াই লড়বার কথা ভেবে থাকেন সেগুলি সবই বড়লোকদের টাকার জোরে তাদের হাতের পুতুলের মত কাজ করে। সিরিজে সুন্দরবনের আদিবাসী মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু নৃশংস অত্যাচারের কথা সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া সিরিজের ভালো দিক বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে এর কাস্টিং। সিরিজে প্রায় বেশির ভাগ অভিনেতাকে আগে কোথাও দেখা যায়নি ফলে নতুন কিছু ট্যালেন্টকে সুযোগ দিয়ে বলিউডের নেপোটিজমের ব্যবসাকে কলা গাছ দেখানোর মতো একটা বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটা সিরিজের প্লাস পয়েন্ট হলেও এদের মধ্যে কিচ্ছু অভিনেতার অভিনয় দক্ষতার অভাবের জন্য সিরিজটিকে একটু পিছিয়ে রাখে। আর অভিনয় ক্ষমতার কথা যখন উঠেছে তখন ডি এস পি ঘোষ অর্থাৎ দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য্যের কথা বলতেই হয়। এনার কনফিডেন্ট অভিনয় দর্শকদের বেশ ভালো লাগবে।
এছাড়া সুরিয়া শর্মা (রিংকু) ভিলেনের চরিত্রে নিজেকে ভালো মতো মানিয়ে নিতে পেরেছেন। তবে এই সিরিজের সবচেয়ে ‘অভদ্র’ চরিত্র হলেন হর্ষ ছায়া (পাপাজী)। অভদ্র বলাটা হয়ত ছোট হয়ে যায় এনার চরিত্রের কাছে কিন্তু সেটা কেন? আপনি সিরিজ দেখলেই বুঝতে পারবেন।
খারাপ দিক সিরিজে তেমন না থাকলেও ছ’নম্বর এপিসোডের পর সিরিজটির গতি একটু কমে যেতে দেখা যায়। তবে সিরিজটিকে এই পার্টেই শেষ করা যেতো তবুও পরিচালক গল্পটিকে সিজন ২-এর জন্য বাঁচিয়ে রেখেছেন। এটা না করলেও চলতো৷
সব মিলিয়ে সোনি লিভের আনদেখি সিরিজটি বেশ ভালো ভাবেই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিতে পারবে। ১০টি এপিসোড প্রত্যেকটি ৩০ মিনিটের কাছাকাছি অর্থাৎ একটি ভালো সিরিজের মজা নিতে হলে ৫ ঘন্টার একটু বেশি সময় ব্যয় করতেই হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল-এর জন্মতিথি থেকে আহমেদাবাদ ও কেভাডিয়া-র মধ্যে চালু হচ্ছে সিপ্লেন পরিষেবা

হীরক মুখোপাধ্যায় (২৮ অক্টোবর '২০):- আগামী ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল-এর জন্মতিথিকে স্মরণে রেখে আহমেদাবাদ-এর 'সবরমতী নদী' থেকে গুজরাতে অবস্থিত কেভাডিয়া-র 'স্ট্যাচু...

প্রতিবাদ দিবস পালন করতে গিয়ে তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের আক্রমণের শিকার ভারতীয় মজদুর সংঘ-র প্রদেশ নেতৃত্ব

হীরক মুখোপাধ্যায় (২৮ অক্টোবর '২০):- কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমিক বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে আজ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেস...

অবস্থান বিক্ষোভ শ্রমিকদের

মলয় সিংহ, বাঁকুড়া :একাধিক দাবি দাওয়া নিয়ে বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের হাটআসুড়িয়ায় কালিমাতা ভেপার প্রাইভেট লিমিটেড নামে রেলের যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানার সামনে অবস্থান...

নারীর ক্ষমতায়ন:

অর্পিতা সিনহা,বাঁকুড়া(২৭অক্টোবর): বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের জয়যাত্রা পেরিয়ে একবিংশ শতাব্দীতে জ্ঞান বিজ্ঞানের আলোকে আজ আমরা অনেকটাই পরিপূর্ণতা লাভ করেছি। সভ্যতার যে অগ্রগতি ও...