05, Dec-2020 || 07:39 pm
Home বিনোদন অপারেশন ব্ল্যাক অ্যারো

অপারেশন ব্ল্যাক অ্যারো

রিতা মিস্ত্রী,কলকাতা:- কাহিনি সংক্ষেপ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পৃথিবীর অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্র শত্রুপক্ষের স্ট্র‍্যাটেজি জানার জন্যে তাদের নিজস্ব গুপ্তচরদের বিভিন্ন দেশে নিয়োগ দিয়েছিল। ব্রিটেনের সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস MI6 থেকে শুরু করে, আমেরিকার G2 এবং ব্ল্যাক চেম্বার ছাড়াও ইতালি, সুইডেন প্রভৃতি দেশের নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স সংঘটন জড়িত ছিল। তাছাড়া মিত্রশক্তির যৌথ গুপ্তচর সংগঠন ‘AIB’ তো ছিলই।পরবর্তীকালে গুপ্তচরবৃত্তি ও গোপন ইন্টেলিজেন্স সংগঠকদের প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে। ইজরায়েলের মোসাদ, জার্মানির বিএনডি (BND), ভারতের র (RAW), চীনের এমএসএস (MSS) অন্যতম।

‘৯০ এর দশকে গুপ্তচরদের এই জগতে আমূল পরিবর্তন আসে।কম্পিউটার ও সাইবার ক্রাইমের যুগে কর্পোরেট, ব্যাঙ্ক, তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে অর্গানাইজড ক্রাইম।ঠিক তেমনই একটা সময়ে ইসরায়েলের তেল আবিব শহরে এক আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদী হামলায় আলোচিত সাংবাদিক সালোম ইলানি মারা যান। ইজরায়েল সিক্রেট সার্ভিস মোসাদ অনুসন্ধান করে জানতে পারে এরকম নানা আক্রমণের পরিকল্পনা করছে একাধিক জঙ্গি সংগঠন। আল কায়দা, বোকো হারাম, আইসিস-এর মতো জঙ্গিদের কাছে অবৈধ অস্ত্র চলে আসছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার ড্রাগ কার্টেল এবং মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। এই নেটওয়ার্ক নিয়েই অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন সালোম।

অন্যদিকে নিহত সালোমের মেয়ে ইয়োনা আমেরিকায় Drug Enforcement Agency বা DEA-তে মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করছিল। ঘটনাচক্রে সেখান থেকে বরখাস্ত হয়ে ইয়োনা ভারতের কাসোলে August Spletier এর সাথে দেখা করতে যায়। সেখান থেকে ফিরে নারকো মাফিয়া আর মধ্য-পূর্বের সন্ত্রাসবাদী দলের মধ্যে আর্থিক লেনদেন ও অস্ত্রের চোরাকারবার থামাতে সে মোসাদের হয়ে কাজ শুরু করে দেয়। রহস্যজনকভাবে সালোমের তদন্ত সম্পর্কে কিছু গোপন সূত্র গ্লোবাল সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইদাউট রিপোর্টার্স-এর হাতে আসে। এই তদন্তে জড়িয়ে পড়ে পিটার, নাসের আর ভিনসেন্টের মতো সিস্টেমের বাইরে থাকা কিছু মানুষও। শুরু হয় অপারেশন ব্ল্যাক অ্যারো।

একদিকে বিশ্বব্যাপী ড্রাগ কার্টেল এবং মানি লন্ডারিংয়ের পদ্ধতি, অন্যদিকে সালোমের হত্যা রহস্যের সমান্তরাল তদন্ত চলতে থাকে। অনুসন্ধান যত এগোতে থাকে, বোঝা যায় অস্ত্র, অর্থ আর সন্ত্রাসের শিকড় ছড়িয়ে আছে সারা পৃথিবীতে। সালোমের তদন্তের যাবতীয় তথ্য ধরে এগোতে গিয়ে একসময় ঠিক-ভুল, বাস্তব-অবাস্তবের দুরত্ব কমে আসতে থাকে তাদের কাছে। রাজনৈতিক চক্রান্ত, ইন্টেলিজেন্স প্রসিডেরাল আর সন্ত্রাসের এই টানাপোড়েনে যখন ছড়িয়ে থাকা সূত্রগুলো জুড়তে শুরু করে তখনই ইয়োনার ওপর হামলা হয়। কোনরকম পালিয়ে বাঁচে ইয়োনা। কে বা কারা মারতে চায় তাকে? কোথায় পালিয়ে যায় সে? এই সাংঘাতিক ষড়যন্ত্রে তার ভূমিকাই বা কি? কে এই August Spletier? নাসের বা ভিনসেন্টের আসল পরিচয় বা কি? শেষ পর্যন্ত কি সফল হলো অপারেশন ব্ল্যাক অ্যারো?

পাঠ প্রতিক্রিয়া:

এসপিওনাজ থ্রিলার বলতে গেলে একেবারেই নতুন আমার কাছে। এসপিওনাজ থ্রিলার বা রাজনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে লেখা খুব কমই লেখা হয়েছে বাংলা সাহিত্যে। শুরুর দিকে বেশ ভালো টেনেছে বলা যায়, কিন্তু নারকো সন্ত্রাসের সাথে সম্পর্কিত মানি লন্ডারিং যেভাবে বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের একটা সূত্র আছে সেটা বুঝতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। এছাড়া এসব কর্মকান্ডের পেছনে বড় বড় দেশের রাজনৈতিক ব্যাপারটা যেভাবে জড়িয়ে আছে যা অনেকটা জটিল মনে হয়েছে আমার কাছে। যার ফলে সেসব বুঝতে কিছুটা নেট ঘেটে আর বইয়ের শেষের রেফারেন্সগুলো ধরে ব্যাপারগুলো বিস্তারিত বুঝতে হয়েছে। হয়তো থ্রিলারের এই ধারার একজন নবীন পাঠক হিসেবে এমনটা হয়েছে। তবে সবমিলিয়ে আমার কাছে যথেষ্ট ভালো লেগেছে বইটি। আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে বাংলা সাহিত্যে থ্রিলারের এই ধারাটি নিয়ে খুব বেশি বেশি কাজ হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন বিধানসভায় অনুষ্ঠিত হলো বিজেপির বাইক রেলী

বাপ্পা রায়, পুরুলিয়া, ০৪ ডিসেম্বর:- ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার পক্ষ থেকে শুক্রবার পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন বিধানসভায় অনুষ্ঠিত হলো বাইক রেলী।এদিন পুরুলিয়া জেলার...

জীবন যুদ্ধ শেষ করে পঞ্চভূতে বিলীন হলেন বাবুরাম মান্ডী

মলয় সিংহ,বাঁকুড়া : না, আর শেষ রক্ষা হলো না জীবন যুদ্ধে হার মানতেই হলো গঙ্গাজলঘাঁটি থানার কতব্যরত সাব-ইন্সপেক্টর বাবুরাম মান্ডীকে । জীবন...

পরপর দু দিন হাসনাবাদে দুই নাবালিকার বিয়ে রুখল প্রশাসন

সৌরভ দাশ,হাসনাবাদ: পরিবারের অবস্থা স্বচ্ছল নয়,ফলত পরিবারের পক্ষ থেকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার আয়োজন হয়েছিলো দশম শ্রেণীর পাঠরতা এক নাবালিকার।তবে বিয়ে নয় পড়াশুনাতেই...

সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন দঃ ২৪ পরগনার জেলাশাসক : রামকৃষ্ণ সাহা

হীরক মুখোপাধ্যায় (৪ ডিসেম্বর '২০):- টানা ১৫ বছর অস্থায়ী কর্মী রূপে কাজ করার পরেও সরকার স্থায়ী কর্মচারী রূপে স্বীকৃতি না পাওয়ায় আজ...