06, Jul-2020 || 03:41 am
Home ব্যবসা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ মকুবের অপপ্রচারে বিপাকে একাধিক ঋণদানকারী সংস্থা

সামাজিক মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ মকুবের অপপ্রচারে বিপাকে একাধিক ঋণদানকারী সংস্থা

হীরক মুখোপাধ্যায় (২৫ মে ‘২০):- ‘কোভিড ১৯’-এর প্রেক্ষাপটে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ মকুবের অপপ্রচারে বর্তমানে কার্যত বিপাকে পড়েছে ‘বন্ধন’, ‘আশা’, ‘আরোহন’-এর মতো একাধিক ঋণদানকারী সংস্থা।

কিছু অসাধু সামাজিক মাধ্যম উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে চলেছে। প্রায় নিয়মিত ভাবেই তারা তাদের ইউটিউব ও ফেসবুক চ্যানেলগুলিতে বলে চলেছে , “সরকার থেকে জানানো হয়েছে ঋণ গ্রহীতাদের আর কিস্তির টাকা ফেরত দিতে হবে না। ব্যাঙ্ক ও ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থাগুলি সমস্ত ঋণ মকুব করে দিয়েছে।”

একটা কথা পরিষ্কার ভাবে বোঝা দরকার যে সরকার কখনোই বলেনি পাকাপাকিভাবে ঋণ মুকুব করা হলো। বরং সরকার বলেছে বিলম্বে হলেও মেটানো যাবে।
বলে রাখা প্রয়োজন, “মোরাটোরিয়াম” শব্দটার অর্থ ঋণের কিস্তি আদায় পিছিয়ে দেওয়া। ‘মোরাটোরিয়াম’ এবং সম্পূর্ণভাবে ঋণ মকুব করার মধ্যে বিশেষ পার্থক্য আছে। এখনো পর্যন্ত সরকারি নির্দেশে যা বলা হয়েছে, তা হলো ঋণের কিস্তি আদায় পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যদিও সেটা ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ও ঋণ গ্রহীতার সিদ্ধান্তের উপরে নির্ভরশীল।

মাথায় রাখতে হবে, কিস্তি আদায় পিছিয়ে গেলেও ঋণের উপর সুদের হার বহাল থাকবে এবং কিস্তি বন্ধ থাকাকালীনও মোট ঋণের উপরে সুদ জমা হতে থাকবে।
এর ফলে ঋণ গ্রহীতার উপর পরবর্তীকালে অতিরিক্ত কিস্তির বোঝা চাপতে পারে ও আরো বেশিদিন ধরে তাকে ঋণ পরিশোধ করতে হতে পারে। অথচ পুরোনো ঋণ সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ না করে তিনি নতুন ঋণ নিতেও পারবেন না।

অতএব যে সমস্ত ঋণ গ্রহীতা এইসব খবরকে সত্যি মনে করে কিস্তির টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেবেন, তাদের ব্যবসার উন্নতি বা জীবনের পরিকল্পনাগুলি দীর্ঘায়িত হতে থাকবে। এছাড়াও, গ্রাহকরা যদি ‘মোরাটোরিয়াম’-এর মেয়াদের পরেও কিস্তি দেওয়া শুরু না করেন, তাহলে সরাসরি তাদের ক্রেডিট স্কোর-এ এর প্রভাব পড়বে এবং পরবর্তীকালে কোনো সংস্থা থেকে ঋণ পেতে তারা বিশেষ অসুবিধায় পড়বেন। 

আর সামগ্রিকভাবে এই ধরণের ভুল ধারণার ফলে রাজ্যের অর্থনীতিতে একটি সাংঘাতিক প্রভাব পড়বে, ব্যবসা বাণিজ্য আরো রুগ্ন হয়ে পড়বে। 

এছাড়াও বুঝে নেওয়া ভালো যে, ঋণ মকুব যদি করতেও হয়, তবে সেই অধিকার কেবল মাত্র সরকারের বা অন্যান্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আছে। ব্যাঙ্ক বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী গ্রাহকদের ঋণ মকুব করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা এই ভুয়ো খবরগুলো ও যারা অসৎ উদেশ্যে এই ধরণের খবর প্রচার করছে তাদের এড়িয়ে চলাই ভালো।
যে সমস্ত ঋণগ্রহীতারা ঋণ বা ঋণের কিস্তি সম্পর্কে বিশদে জানতে চান, তাদের সরাসরি ঋণপ্রদানকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলা উচিত।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

দিলীপ ঘোষের লাল চোখ আগামী ছয় মাসের মধ্যে হলুদ করে দেব : কল্যাণ

মলয় সিংহ , বাঁকুড়া : বাংলার তৃণমূল কর্মীদের কে লাল চোখ দেখাবেন না,না হলে আপনার সেই লাল চোখ আগামী ছমাসের মধ্যে হলুদ...

স্বামী বিবেকানন্দের মহা প্রয়ানের ১১৮ বছর

অর্পিতা সিনহা, বাঁকুড়া(৫ জুলাই ): সালটা ছিলো ১৯০২ এর ৪ঠা জুলাই।এই দিন স্বামী বিবেকানন্দের নশ্বর দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হয়।স্বামীজীর জীবন যতটা আশ্চর্যময়তায়...

অযান্ত্রিক অভিযানে ট্যাক্সি ড্রাইভার

ঋদ্ধি ভট্টাচার্য, কোলকাতা:- আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রে ট্যাক্সি ড্রাইভার খুব চেনা জানা একটি চরিত্র, হয়তো আমাদের প্রতিবেশী, যে কিনা প্রধান চরিত্র হিসেবে বিশেষভাবে...

শিক্ষকই পারে সমাজকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে

সঞ্চিতা সিনহা, বাঁকুড়া(৫ জুলাই ২০): শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডকেও নিজের জীবনের ব্রত করে নিয়েছেন মালদার আমির উদ্দিন।তাঁর মতো মানুষ বর্তমান সমাজ-রাজনীতিতেও খুবই...