06, Jul-2020 || 04:41 am
Home বিনোদন সিনেমা সমালোচনা: ভোদকা ডায়েরিস

সিনেমা সমালোচনা: ভোদকা ডায়েরিস

ঋদ্ধি ভট্টাচার্য,কলকাতা:-বরফ ঘেষা মানালি শহর। চারটি খুন ! একজন আততায়ী ?ঘটনা ১। ঘটনাস্থল হিমাচল প্রদেশের মানালি শহর। নিজের ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে সম্ভ্রান্ত পরিবারের, সেল্ফ-ডিপেনডেন্ট মেয়ে মেঘনা (নামিয়া সাক্সেনা)-কে। সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্ট, আত্মহত্যা নয়, বরং খুন করা হয়েছে মেঘনাকে। লিঙ্ক খুঁজতে গিয়ে পুলিশের হাতে আসে মানালিরই ‘ভোদকা ডায়েরিস’ নামে একটি বার কাম হোটেলের পার্টির ভিঅাইপি পাস। সাথে ফ্ল্যাটের বুকশেলফে পাওয়া যায় প্রখ্যাত লেখক ঋষি গৌতমের ‘রিডেম্পশন অফ এ মার্ডারার’ নামে একটি বই। মেঘনার খুনের সাথে কি এই হোটেলের বা এই বইটির কোনো যোগসূত্র আছে ?

ঘটনা ২। এবার আমরা যাবো সেই একই হোটেলের ২০১ নম্বর ঘরের দিকে। পার্টির পরদিন সেই ঘরে পাওয়া যায় আরো একটি মৃতদেহ। আপাতদৃষ্টিতে পুলিশের অনুমান, এক্ষেত্রেও খুন করা হয়েছে রণি (হ্যারি টাংগিরি)-কে। ভিক্টিম ঠিক সেইদিন সকালেই হোটেলে এসে উঠেছিলেন। পার্টি চলাকালীন কে খুন করলো রণিকে?

ঘটনা ৩। আততায়ীর এবারের শিকার মেঘনার বয়ফ্রেন্ড বিবেক (ঋষি ভূটানি)। মানালির বরফ ঘেরা ঝাউবনে পাওয়া গেছে বিবেক’এর মৃতদেহ। সাথে অদূরেই গাড়ির মধ্যে পাওয়া গেছে সেই একই বইয়ের একটি কপি। ঘটনাটি নিছকই কাকতালীয়, নাকি খুনী কি ইচ্ছা করেই অকুলস্থলে এই বইটি রেখে দিয়ে যাচ্ছে ?

ঘটনা ৪। এই অভিশপ্ত রাতের পরদিন ঠিক সকালেই আবিষ্কৃত হয় খুনীর চতুর্থ শিকার নিখিল (রাহুল কাপুর)- এর দেহ। হোটেলের ঠিক বাইরেই বরফ চাপা দেওয়া অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়েছে নিখিলের মৃতদেহ। এই খুনটিও কি অন্য খুনগুলোর সাথে সম্পর্কিত ?

লক্ষ্য করে দেখুন, চারটি খুনের সাথেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুড়ে আছে ভোদকা ডায়েরিস হোটেলের নাম। এক দিনের মধ্যে এই চার-চারটি খুনের ঘটনায় হোটেল জুড়ে হইচই পড়ে যায়। খুনের কিনারা করতে আসরে নামেন হিমাচল পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অশ্বিন দীক্ষিত। তদন্তে উঠে আসে এক অবাক করা তথ্য। তৃতীয় খুনের দিন রাতে বিবেক নাকি গাড়িতে একা ছিল না, তার সাথে ছিল অন্য একটি মেয়ে, যার পরিচয় এখনো অবধি পুলিশের কাছে অজানা। রহস্য ক্রমশ: ঘনীভূত হয়ে উঠতে থাকে। এই মেয়েটিই কি এই চার-চারটি খুনের পিছনে আছে, নাকি অন্য কেউ ? এরই মাঝে হঠাৎ একদিন উধাও হয়ে যায় অশ্বিনী দীক্ষিতের স্ত্রী শিলা (মন্দিরা বেদী)। শিলাকে কে কিডন্যাপ করলো ? সেই মেয়েটির পরিচয়ই বা কি ? হাজারো প্রশ্নের মাঝে হারিয়ে যেতে থাকেন অশ্বিনী। পারবেন, তিনি চারপাশের এই ষড়যন্ত্রের জাল ভেঙে স্ত্রীকে উদ্ধার করতে, এবং আসল অপরাধীকে শাস্তি দিতে ? রুদ্ধশ্বাস গতিতে গল্প এগিয়ে চলে।

খুব চেষ্টা করেও গল্পের এর বেশি আভাস দেওয়া গেল না। আমার ব্যক্তিগতভাবে থ্রিলার জাতীয় সিনেমার রিভিউ দেওয়া সবচেয়ে কঠিন বলে মনে হয়। কারণ, এতে নিখুঁত লিখনশৈলীতে দর্শককে সিনেমার ব্যাপারে জানাতেও হয়, আবার খুব সাবধানে গল্পের আসল টুইস্টের জায়গাগুলোকে এড়িয়ে যেতে হয়। সেকেন্ড হাফে এই খুনের গল্পের সাথে যোগ হয়েছে এমন আরো কিছু মোচড়, যা এক মুহূর্তের জন্য হলেও আপনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। গল্পের মধ্যে হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ‘শাটার আইল্যান্ড’এর প্রচ্ছন্ন প্রভাব আছে বটে, কিন্তু তা বলে এটিকে কখনোই শাটার আইল্যান্ডের আস্ত রিমেক বলা যায় না। বরং কিছুটা শাটার আইল্যান্ড, আর কিছুটা নিজস্ব টুইস্ট নিয়ে চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে। ফলত, আপনি যতবার আগে থেকে ভেবে নিতে যাবেন, ততবার ঠকবেন। তার চেয়ে নিশ্চিন্ত মনে থ্রিলার উপভোগ করুন, টুইস্ট দেখে চমকে উঠুন। একইসাথে সিনেমার কয়েকটা জায়গা খুব প্রেডিক্টেবল হলেও, কয়েকটা জায়গা তারিফ করার মত। থ্রিলারে এরকম মোচড় থাকলে দর্শকাসনে বসে বারবার বোকা হতেও ভালো লাগে।

অভিনয়ে অশ্বিনী দীক্ষিতের চরিত্রে কেকে মেনন যথেষ্ট সাবলীল। মূলত তাকে সামনে রেখেই চিত্রনাট্য সাজানো, ফলে অশ্বিনীর সহকারীর ভূমিকায় শারিব হাশমি, বা স্ত্রী’র চরিত্রে মন্দিরা বেদিকে বড়জোর পার্শ্বচরিত্র বলা চলে। সিনেমায় একটি বিশেষ চরিত্রে আছেন আমাদের রাইমা সেন।

এর বাইরে সিনেমার একমাত্র খারাপ দিক হিসাবে বলা যায় গল্পের কিছুটা স্লো বিল্ড-আপ। ফলে শুরুর বেশ কিছুটা সময় বোরিং লাগতে পারে। তাছাড়া ঐ যে বললাম, কয়েকটা জায়গা আপনি আগে থেকে আন্দাজ করতে পারবেন। যদি পারেন, সেটা আপনার মুনশিয়ানা। তবে এটুকু বাদ দিলে আর আপনি থ্রিলার সিনেমার ভক্ত হলে, আর হাতে সময় থাকলে ‘ভোদকা ডায়েরিস’ আপনার গন্তব্য হতেই পারে। কেকে মেননের অভিনয় আর শেষের অভিনব টুইস্ট দেখতে আশা করি ভালোই লাগবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

দিলীপ ঘোষের লাল চোখ আগামী ছয় মাসের মধ্যে হলুদ করে দেব : কল্যাণ

মলয় সিংহ , বাঁকুড়া : বাংলার তৃণমূল কর্মীদের কে লাল চোখ দেখাবেন না,না হলে আপনার সেই লাল চোখ আগামী ছমাসের মধ্যে হলুদ...

স্বামী বিবেকানন্দের মহা প্রয়ানের ১১৮ বছর

অর্পিতা সিনহা, বাঁকুড়া(৫ জুলাই ): সালটা ছিলো ১৯০২ এর ৪ঠা জুলাই।এই দিন স্বামী বিবেকানন্দের নশ্বর দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হয়।স্বামীজীর জীবন যতটা আশ্চর্যময়তায়...

অযান্ত্রিক অভিযানে ট্যাক্সি ড্রাইভার

ঋদ্ধি ভট্টাচার্য, কোলকাতা:- আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রে ট্যাক্সি ড্রাইভার খুব চেনা জানা একটি চরিত্র, হয়তো আমাদের প্রতিবেশী, যে কিনা প্রধান চরিত্র হিসেবে বিশেষভাবে...

শিক্ষকই পারে সমাজকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে

সঞ্চিতা সিনহা, বাঁকুড়া(৫ জুলাই ২০): শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডকেও নিজের জীবনের ব্রত করে নিয়েছেন মালদার আমির উদ্দিন।তাঁর মতো মানুষ বর্তমান সমাজ-রাজনীতিতেও খুবই...