05, Jun-2020 || 11:40 am
Home কলকাতা রোজা চলছে বলে কাজ বন্ধ বারাসাতের খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ বিভাগের কার্যালয়ে

রোজা চলছে বলে কাজ বন্ধ বারাসাতের খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ বিভাগের কার্যালয়ে

হীরক মুখোপাধ্যায় (১১ মে ‘২০):- “রোজা চলছে বলে প্রত্যেকদিন বেলা ৩ টে থেকে কাজ বন্ধ বারাসাতের খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ বিভাগের কার্যালয়ে”, এমনই এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈকা ভুক্তভোগী মহিলা।

বারাসাত ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই বাসিন্দা তাঁর পুরনো কার্ডের বদলে আজ পর্যন্ত কোনো ডিজিটাল রেশন কার্ড হাতে পাননি। গত বছর ৭ নভেম্বর তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সদস্যরা ডিজিটাল রেশন কার্ড দেবার জন্য আবেদনও করেছিলেন।

লকডাউনের প্রভাবে এই মুহুর্তে বারাসাতের বেশিরভাগ খোলা বাজার বন্ধ থাকায় তাঁর ঘরে চালও বাড়ন্ত, অথচ তাঁর এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস-এর পৌরপিতা এই বিষয়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ। যদি খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ বিভাগের আধিকারিকরা ‘বারকোর্ড’ সার্চ করে তাঁর রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করতে পারেন এই আশায় তিনি গিয়েছিলেন সরকারী কার্যালয়ে।
কিন্তু, সরকারী কার্যালয়ে গিয়ে বিভাগীয় করণিক অপা চক্রবর্তী-র মুখ থেকে শুনে এলেন “নেট থেকে বারকোর্ড সার্চ করে বুধবার আসুন।”

আবেদনের নিরিখে ‘বারকোর্ড’ দিয়েছে খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ বিভাগ। দপ্তর চাইলে নিমেশে তাদের সাইট থেকে সমস্ত তথ্য জেনে ওই মহিলাকে আশ্বস্ত করতে পারত, অথচ পরিতাপের বিষয় এই লকডাউনের সময় যখন সব সাইবার কাফে বন্ধ তখন ওই মহিলাকে বলা হয়েছে, “এটা আপনার দায়িত্ব “।

অভিযোগকারিণী মহিলা জানিয়েছেন, “বিভাগীয় করণিক আমাকে বলেছেন, মন্ত্রীরা টিভির সামনে দাঁড়িয়ে ওরকম অনেক বড়ো বড়ো কথা বলেন, আমাদের কাছে কার্ড বা খাদ্য সামগ্রী দেবার কোনো সরকারী নির্দেশিকা এখনো আসেনি।”

তিতিবিরক্ত মহিলা সাংবাদিকদের মাধ্যমে খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ বিভাগের মন্ত্রী-কে জানালেন, “যদি দপ্তরে সরকারী নির্দেশিকাই না পাঠাবেন, তাহলে সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে ওরকম কথা বলছেন কেনো ? কে ঠিক আপনি না বিভাগীয় করণিক ? মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলছেন অপ্রয়োজনে বাইরে বেরবেননা, ছোঁয়াচে রোগ থেকে নিজে বাঁচুন অন্যদেরও বাঁচান। এই কথার পরেও কেনো আমাকে অযথা এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করতে হবে ! আমার কিছু হলে এর দায়িত্ব কে নেবে ?”

সব থেকে লজ্জার বিষয় ওই মহিলাকে প্রথমে কার্যালয়ে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। যাও বা ব্যক্তিগত স্তরে ও সংবাদমাধ্যমের হস্তক্ষেপে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন, তারপরও শুনতে হয়েছে “রোজা চলছে দপ্তরের বেশিরভাগ আধিকারিক ও কর্মীরা ৩ টে থেকে কার্যালয়ে থাকছেন না। আপনার সাথে কোনো কথা বলতে পারবনা।”

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এবং খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ বিভাগের মন্ত্রী যখন কোরোনা অতিমারীর মধ্যেও রাজ্যের নাগরিকদের মুখে রেশন দোকানের মাধ্যমে সামান্য খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, ঠিক সেই সময় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ বিভাগের আধিকারিক ও কর্মীদের এই কর্মকাণ্ড নেহাতই হতাশাজনক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

আমফানের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে বিক্ষোভ ,শান্তিপুরের তিনটি পঞ্চায়েতের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে পোস্টার পরল

স্নেহাশীষ মুখার্জি, নদীয়া, ৪ জুন: আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে দুর্নীতি করছে পঞ্চায়েত মেম্বার, এই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার নদিয়ার শান্তিপুরের বেলঘড়িয়া ১...

মার সঙ্গে প্রতিবেশীদের ঝগড়া থামাতে গিয়ে শ্লীলতাহানীর শিকার মেয়ে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, নদীয়া, ৪ জুন: ঝগড়া থামাতে গিয়ে শ্লীলতাহানীর শিকার হল মেয়ে। অভিযোগ তাঁকে শ্লীলতাহানি করেছে প্রতিবেশী যুবকরা। এই ঘটনায় ৬ জনের...

গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান করোনা-য় আক্রান্ত

অভিজিৎ হাজরা, হাওড়া : হাওড়া জেলার আমতা ২ নং ব্লকের জয়পুর থানার খালনা গ্ৰামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান করোনা-য় আক্রান্ত।উপপ্রধানের পরিবার...

মে মাসে শুধু কোলকাতা থেকে ১১০ টন লিচু ও ৬০ টন মাছের ডিমপোনা পরিবহন করেছে স্পাইসজেট

হীরক মুখোপাধ্যায় (৪ জুন '২০):- এই বছর মে মাসে দমদম বিমানবন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১১০ টন লিচু ও ৬০ টন মাছের...