Categories: জেলা

লাভ ম্যারেজ বনাম অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ

সঞ্চিতা সিনহা,বাঁকুড়া(১ অক্টোবর ): ভারতীয় সমাজে অতি প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত একটি রীতি হল বিবাহ। তবে প্রাচীনকালে পরিবারের লোকজনের হস্তক্ষেপেই বিবাহ কাজ সম্পন্ন করা হতো। তখন বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র বা পাত্রীর তেমন কোনো ভূমিকা থাকত না। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাত্রের মতামত নেওয়া হলেও পাত্রীর মতামত সেই সময় ছিল নগণ্য। তাই দেখা যায় নব দম্পতির বেশ কিছুটা সময় চলে যেত পরিবারের লোকজনকে চিনতে। যার দরুন তাদের একে অপরের পছন্দ আর অপছন্দ জানা হয়ে উঠত না। আবার আদিকালে ভালোবেসে বিবাহ প্রায় ছিলনা বললেই হয়। যার মূল কারণ ছিল বর্ণ বা ধর্মের পার্থক্য। এই সময় মনে করা হতো কোনো উচ্চবংশজাত কেউ নিম্নবর্ণজাত কাউকে বিবাহ করবে না। আর এর পরেও যদি তারা বিবাহ করে তাহলে তাদেরকে সমাজ এক ঘরে করবে।
তাছাড়া সেকালের মানুষ পাশ্চাত্য শিক্ষাকে সেইভাবে গুরুত্ব দিত না।পুঁথিগত বিদ্যাতেই তারা আবদ্ধ ছিল।নারীদেরও ছিল না অবাধ স্বাধীনতা। পর্দার আড়ালেই ছিল তাদের অবাধ বিচরণ।এখনকার মত খোলা আকাশের নিচে স্বাধীনচেতা নারী হিসাবে বাকস্বাধীনতার ও কোন অধিকার ছিল না।পুরুষশাসিত সমাজে সেইসময় আমাদের দেশে নারীদের জন্য ছিল না কোন ভাল স্কুল , কলেজ যেখান থেকে তারা উচ্চ শিক্ষিত হবার সুযোগ পেতে পারে। তাই তারা একে অপরকে মানিয়ে চলত। কিন্তু  বর্তমানে মানুষ খুব স্বাধীনচেতা। নারী সমাজ এখন পাশ্চাত্যশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে।নিজের ভাল মন্দের বিচারশক্তি তারা রপ্ত করেছে। নেট দুনিয়াতে তাদের পরিচিত বেড়েছে।তাদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিজের ভালো থাকা। তাই তারা নিজের পচ্ছন্দ মতো ভালোবেসে বিয়ে করে। আর এক্ষেত্রে তারা আগে থেকেই একে অপরকে চিনে বলে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকে কম। ফলে তাদের দাম্পত্যজীবনও হয় সুখের।
বিশ্বাসের দ্বারা যেহেতু সংসার টিকে থাকে সেহেতু স্বামী -স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক টিকে থাকার মূল ভিত হলো বিশ্বাস। তাই বিয়ের আগে থেকে দুজন দুজনকে চিনলে তারা একজন অন্যজনের ভালো লাগা-মন্দ লাগা,আশা – আকাঙ্ক্ষা, চিন্তাভাবনা বুঝতে পারে। যার দরুন তাদের বিবাহিত জীবন হয় সুমধুর। অন্যদিকে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে নব দম্পতি ধীরে ধীরে একে অপরের ভুল ত্রুটি ধরতে পারে। তখন এগুলি তাদের মধ্যে হতাশার জন্ম দেয় যা তাদের সাংসারিক জীবনকে করে তোলে দুর্বিষহ। আবার অনেক সময় অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের ক্ষেত্রে দেখা যায় পুরনো প্রেম নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে পাত্র-পাত্রী একে অপরের সম্পর্কে কিছু জানে না, সে ক্ষেত্রে তাদের কাছে একে অপরকে জানার সুযোগ তৈরী হয় বিয়ের পর । যাতে সম্পর্ক আরও ভালো হয় এবং তারা চেষ্টা করে সঙ্গীকে প্রতিদিন নতুন ভাবে জানার।
প্রেম করে বিয়ে করলে দুই পরিবারের মধ্যে পণের কোনো কলহ থাকে না। কিন্তু  অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের ক্ষেত্রে দুই পরিবারের মধ্যে যৌতুক নিয়ে রীতিমতো কলহ শুরু  হয়ে যায়। লাভ ম্যারেজে একে অপরের প্রতি আশা ভরসা বেশি থাকে। সেটি পূরণ না হলে অনেক সময় দেখা যায় তাদের মধ্যে মান অভিমানের পর্ব অনেকটাই বেড়ে গেছে । কারণ অনেক প্রেমিক-প্রেমিকা ভাবেন প্রেম করার পরও সে কেন তাদের সমস্যা একে অপরে বুঝতে পারছে না। আর তাতেই শুরু  হয় সমস্যা। তবে একথা বলা যেতেই পারে বিয়ে শুধুমাত্র ছেলে বা মেয়েকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেনা। বিয়ে দুটি পরিবারের মধ্যে বন্ধন স্থাপন করে। আর কোনো বিয়ে কে তখনই সফল বলা যায় যখন তাদের মধ্যে পারস্পারিক সমঝোতা, মানিয়ে নেয়ার মনোভাব, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদানের মানসিকতা গড়ে ওঠে। নবদম্পতির মধ্যে যখন বোঝাপড়া ভালো হয় তখন যেকোনো বিয়েই সুখের হয়। সেক্ষেত্রে তাদের দাম্পত্য জীবনও হয়ে ওঠে সুমধুর।

Share

Recent Posts

প্রেমিকাকে মোবাইল ফোনে ডেকে মারধর প্রেমিকের

শুভঙ্কর অধিকারী, বসিরহাট(১৭ অক্টোবর): বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ থানার পূর্ব খেজুরবাড়িয়া গ্রামের ঘটনা। হিঙ্গলগঞ্জ মহা বিদ্যালয়ের এর প্রথম বর্ষের ছাত্রী বয়স… Read More

18 mins ago

ত্রিকোণ প্রেমের জেরে খুন নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোন কারণ তদন্তে পুলিশ

শুভঙ্কর অধিকারী, নিমতা(১৭ অক্টোবর): নবমীর শেষ রাতে নিমতার বঙ্কিম মোড়ে গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল দমদমের বাসিন্দা দেবাঞ্জন দাসের দেহ। ওই… Read More

20 mins ago

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশে আস্থা নেই খোদ রাজ্যপালের তাই পাঁচজন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কর্মী পাঠাচ্ছে কেন্দ্র

হীরক মুখোপাধ্যায় (১৭ অক্টোবর '১৯):-পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশে আস্থা নেই খোদ রাজ্যপালের তাই রাজ্যপালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিশেষ শিক্ষিত পাঁচজন… Read More

24 mins ago

বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শ্রীমদ্ভগবদগীতার বাস্তবতা (দ্বিতীয় পর্ব)

অর্পিতা সিনহা,বাঁকুড়া(১৫অক্টোবর): তৃতীয় অধ্যায়,কর্মযোগ : অর্জুন বললেন হে পরমেশ্বর কর্ম অপেক্ষা জ্ঞানই যদি শ্রেষ্ঠ হয় তাহলে মানুষ কেন এত হিংসা… Read More

2 hours ago

জাতীয় পতাকা উল্টোভাবে উত্তোলন করে রাজ্য সরকারের মুখ পোড়াল ডিরেক্টরেট অব কমার্সিয়াল ট্যাক্সেস

হীরক মুখোপাধ্যায় (১৬ অক্টোবর '১৯):- আজ সকালে ভারতের জাতীয় পতাকা উল্টোভাবে উত্তোলন করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সীমাহীন লজ্জার সামনে ফেলল সল্টলেকে… Read More

1 day ago

বর্তমানে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রীমদ্ভগবদগীতার বাস্তবতা

অর্পিতা সিনহা,বাঁকুড়া(১৫অক্টোবর ): শ্রীমদ্ভগবদগীতা হিন্দুদের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ। গীতা ৭০০টি শ্লোক ও১৮ টি অধ্যায় নিয়ে রচিত। শ্রীমদ্ভগবদগীতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখ নিঃসৃত… Read More

1 day ago