ভাতৃদ্বিতীয়া সম্পর্কে কিছু কথা

জেলা

 

সৌগত মন্ডল,বীরভূম(০৮/১১/২০১৮): সভ্যতার ইতিহাসের সাথে সংস্কৃতির এক অদৃশ্য যোগসূত্র রয়েছে। সেই ধারায় অনেক আচার-অনুষ্ঠান শতাব্দীর পর শতাব্দী পালিত হয়ে আসছে নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে। এমনই একটি সংস্কার ‘ভাই ফোঁটা’। পোশাকি নাম ‘ভাতৃদ্বিতীয়া’। প্রতি বাংলা বছরের কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে পালিত হয় এ অনুষ্ঠান। ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় তার কপালে টিকা দেন বোন। তাই ‘ভাইটিকা’ বললেও ভুল হবে না।

ভাই ফোঁটা নিয়ে রয়েছে অনেক গল্প-কাহিনী। দিদা-ঠাকুরমাদের কাছ থেকে শোনাঃ মৃত্যুদূত যম ও যমুনা যমজ ভাইবোন। সূর্যের ঔরসে জন্ম তাদের। বড় হওয়ার পর দুজনে আলাদা হয়ে যান। থাকতেন পরস্পর থেকে অনেক দূরে। লম্বা সময়ের ব্যবধানে যমুনার খুব ইচ্ছে হলো ভাইকে দেখতে। বার্তা পাঠালেন তাকে। বোনের নিমন্ত্রণে যমরাজকে আসতেই হলো। যথাসাধ্য আপ্যায়ন করলেন যমুনা। ফেরার সময় আবারো আসার প্রতিশ্রুতি দিলেন যম। তখন খুশিতে ভাইকে আশীর্বাদ করে টিকা পরিয়ে দিলেন কপালে। সেই থেকেই নাকি ভাই ফোঁটার প্রচলন। আবার কথিত আছে, নরকাসুর নামের এক দৈত্য বধের পর কৃষ্ণ ফিরে এসেছেন বোন সুভদ্রার কাছে। তখন তাকে কপালে ফোঁটা দিয়ে মিষ্টি খেতে দেন সুভদ্রা। অনেকের মনে করেন, ভাই ফোঁটার শুরু এর মধ্য দিয়েই। যম-যমুনা বা কৃষ্ণ-সুভদ্রা, যাদের দ্বারাই এ অনুষ্ঠানের প্রচলন হোক না কেন, আজো তা বজায় রয়েছে। ভাইবোনের মধ্যে পবিত্র সম্পর্কের বার্তাকে আরো সুদৃঢ় করে এ রীতি।চন্দনবাটা, ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দু আর দই এর মিশ্রনের ফোঁটা উক্ত ছড়া কেটে ভাই এর কপালে দেবার সময় বোনটি কেবল তার ভাই এর কল্যাণ কামনা করে।
ভাই এর মাথায় ধান দুর্বা দিয়ে তার মংগল কামনা করা হয়। এই সময় শঙ্খ আর উলু ধ্বনিতে এক মনোরম পরিবেশ সূচিত হয়।

বোন যদি বড় হয় তাহলে ভাইকে আশীর্বাদ করে মিষ্টি মুখ করিয়ে তার উপহারটি ভাই এর হাতে তুলে দেয়। আর বোন যদি ছেটি হয় তবে দাদা দেয় তাকে পছন্দনীয় উপহার। তারপর চলে বোন আর ভাই এর প্রিয় খাবার খাওয়া।

এই দিনটিকে কেন্দ্র করে মিটে যায় বহু ভাই বোনের সাময়িক মনোমালিন্য। ভাই আর বোন সৃষ্টি করে এক মিলন ক্ষেত্র।
প্রতি বছর হেমন্তকালে কার্তিক মাসের শুক্লা পক্ষের দ্বিতীয় দিন অর্থাত দ্বিতীয়ার দিনটিকে ভাতৃ দ্বিতীয়া হিসেবে পালন করা হয়।আর যতক্ষণ দ্বিতীয়া থাকে ততক্ষণ বোনের অপেক্ষার প্রহর থাকে কখন আসবে তার ভাই টি। এক মিলন মেলা রচিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *