10, Aug-2020 || 02:35 pm
Home জেলা বাংলার ব্রতগুলো যেন বাঙালি শিল্পবোধের পরিচায়ক

বাংলার ব্রতগুলো যেন বাঙালি শিল্পবোধের পরিচায়ক

অর্পিতা সিনহা, বাঁকুড়া (৩১শে জুলাই): মনের ইচ্ছা পূরণের জন্য অনুষ্ঠিত ধর্ম ,কার্য ,তপস্যা সংযমই হল ব্রত। কথিত আছে মানুষের দশ দশা। এইগুলির মধ‍্যে বির্পযস্ত দশাগুলিকে অতিক্রম করার প্রচেষ্টা থেকেই মানুষ এই ব্রত ক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।প্রাথমিক ভাবে বলতে গেলে বলা যায় মানুষের ধর্ম বিশ্বাস এবং কিছু অলৌকিক আচরণকে কেন্দ্র করেই ব্রতকথা গুলি গড়ে উঠেছে।দেবতার আরাধনা একা একা করা যায় কিন্তু ব্রত করতে গেলে সংঘবদ্ধভাবে করতে হয়।
কুমারী ব্রত গুলি শাস্ত্রীয় ব্রতের চেয়ে অনেকাংশে মৌলিক ব্রত। ব্রত কথা শোনা এবং আচরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাটক ও চিত্রকলার সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়।কারণ এই ব্রত ক্রিয়া সম্পন্ন করতে গেলে কামনার অনুকরণে আলপনা আঁকা হয়।গাছের ডাল, ফুল, সিঁদুর প্রভৃতি উপাদান দিয়ে সাজানো হয় ব্রতকরার স্থানটিকে। সবকিছুর মধ্যেই যেন এক নান্দনিক মন্ডন কলার ছাপ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরিচ্ছন্ন রুচির ধর্মীয় বোধের সঙ্গে পরিকল্পনার ছাপও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ব্রতগুলির মধ্যে দিয়ে।যেমন পুন্যি পুকুর ব্রত বৈশাখ মাসে প্রখর রোদে পুকুরের জল যাতে শুকিয়ে না যায় বা গাছ যাতে মরে না যায় তার জন্যই এই অনুষ্ঠান।এই ব্রতে একটি বেল গাছের ডাল পুঁতে দেওয়া হয় পুকুরের মত খোঁড়া একটি গর্তের মধ্যে।তারপর সেই গর্তে পুকুরের জল ভর্তি করে বেলের ডালটিকে ফুল দিয়ে সাজিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ছড়া আবৃত্তি করা হয়।এই আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে নাটকীয়তার সুর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবার ব্রতের শেষে যে ব্রত কথা উচ্চারিত হয় তাও যেন লৌকিক কাব্যের দৌতক সরুপ।সংসার,সমাজ তথা প্রিয়জনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রচিতএই ব্রতকথার ছড়াগুলি।আবার যখন বৃষ্টি কামনা করে বাসুধারা ব্রত করা হয় তখন আলপনায় তারা আঁকা হয়। মাটির ঘর তৈরি করে তাতে ফুটো করে বৃষ্টির অনুকরণে গাছের মাথায় জল ঢালা হয়।এই আচরণগুলির মধ্যে নাটকীয়তার সুর স্পষ্ট হয়ে উঠে।আবার দশ পুত্তলি ব্রত চৈত্রসংক্রান্তিতে আরম্ভ করে বৈশাখ মাসের সংক্রান্তি পর্যন্ত হয়।এই ব্রত কেবলমাত্র কুমারী মেয়েরাই করতে পারে।এই ব্রতে পিটুলি দিয়ে দশটা পুতুল আঁকতে হয়। প্রত্যেক পুতুল যেন এক একজন পরিবারের সদস‍্য এই মনে করে পুতুল গুলির উপর মন্ত্র বলে ফুল ও দূর্বা দেওয়াই এই ব্রতের বিধি।আবার বাড়িতে কোন মঙ্গল অনুষ্ঠানের উপলক্ষে সুবচনী ব্রত করা হয়ে থাকে। এই ব্রতে উঠানের মধ্যে চারকোনা একটি ঘর কেটে, আলপনা দিয়ে, পাশাপাশি চার জোড়া হাঁস এঁকে, আমের পল্লব দিয়ে ঘট বসিয়ে একটি গর্ত খুঁড়ে তাতে দুধ ভর্তি করতে হয়, তারপর শাঁখ বাজিয়ে পুজো শেষ করতে হয়। সাধারণত নববিবাহিত বর বধূর কল্যাণ কামনায় এই পূজা অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে।আবার সেঁজুতি ব্রতে ৫২ টি ঘর তৈরি করতে হয়।প্রত্যেকটি ঘরে দূর্বা দিয়ে মন্ত্র বলে পুজো করতে হয়।বাড়ির উঠানে, ছাদে বা দালানে পিটুলি দিয়ে সেঁজুতির ছবি আঁকতে হয়।মাঝখানে গোল করে এঁকে তার উপর ঘট বসাতে হয়।যার মধ্যেও চিত্রকলার ও নাট‍্যকলার রুপ সুস্পষ্ট।

মানব মনের শিল্পবোধের ক্রমবর্ধমান রূপ রূপান্তরের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাঙালির এই ব্রত গুলি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের সম্মান জানাতে এসভিএফের সহায়তায় মিউজিক ভিডিও বানালো টাটা স্ট্রাকচুরা

হীরক মুখোপাধ্যায় (৮ অগস্ট '২০):-দেশের প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের সম্মান জানাতে 'শ্রী ভেঙ্কটেশ ফ্লিমস' (এসভিএফ)-এর সহায়তায় মিউজিক ভিডিও বানালো 'টাটা স্ট্রাকচুরা'।

অল্প বৃষ্টিতে জলমগ্ন টাকী পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তা,লকডাউনের জন্যই থমকে কাজ, দ্রুত মেরামতি র আশ্বাস পৌর প্রশাসকের

সৌরভ দাশ,হাসনাবাদ: ভারি মালপত্র বহনকারী গাড়ি থেকে প্রতিনিয়ত প্রচুর মানুষের যাতায়াত, ছোট বড়ো যানবাহনের লাগামহীন চলাচল কার্যত স্থবির করে দিয়েছে টাকীর রাস্তা...

“জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০” প্রণয়নের প্রতিবাদে পুরুলিয়ায় সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ আন্দোলন

বাপ্পা রায়, পুরুলিয়া:- নতুন শিক্ষা নীতি ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় সরকার। তারই প্রতিবাদে এ দিন "জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০" প্রণয়নের প্রতিবাদে পুরুলিয়ায় সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ...

পুরুলিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস যোগদান

বাপ্পা রায়,পুরুলিয়া:- শুক্রবার পুরুলিয়া বিধানসভার হুটমুড়া অঞ্চলের বিজেপির ৪০টি পরিবার , এবং কংগ্রেসের ৫ টি পরিবার তাদের দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস যোগদান...