Categories: জেলা

দৈবশক্তি বনাম ইচ্ছাশক্তি

সঞ্চিতা সিনহা,বাঁকুড়া: পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার হবার পর থেকেই এই ধারণা তৈরী হয়ে গেছে যে,পৃথিবী ঈশ্বরের সৃষ্ট এক অপূর্ব স্থান। আস্তিকরা এটাও বিশ্বাস করে পৃথিবীতে যা কিছু  ঘটনা ঘটছে তা যেন ঈশ্বরেরই এক লীলা খেলা। ঈশ্বর রুষ্ট হলেই পৃথিবীতে নেমে আসে নানান প্রাকৃতিক বিপর্যয়। তাই ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাসীগণ বলেন ঈশ্বর না চাইলে কোনো কাজেই সাফল্য পাওয়া যায় না। আর সে জন্যেই তারা কাজ না করে ঈশ্বরের নাম নিয়ে সাফল্য পেতে চায়। এই সব মানুষের জীবনে যদি কোনো দুর্ঘটনা নেমে আসে তাহলে তারা ভাবেন ঈশ্বর তাদের উপর রুষ্ট হয়েছে। এরপরই শুরু  হয়ে যায় ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার নানান প্রচেষ্টা। আস্তিক মানুষ কখনই নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে কর্ম সম্প্রদানের চেষ্টা করে না। আর যারা সব কিছুতে ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানেনা তারাই নাস্তিক নামে পরিচিত। এরা বিশ্বাস করে ইচ্ছাশক্তির দ্বারা মানুষ যে কোনো কাজ করতে সক্ষম।
নাস্তিকরা বিশ্বাস করে প্রত্যেক মানুষই চায় যে সে এমন একটা কাজ করবে যার জন্য সারা পৃথিবীর লোকজন তাকে ধন্য ধন্য করবে। কিন্তু  কোনো কাজে সাফল্য পেতে গেলে প্রয়োজন হয় ধৈর্য্য ও ইচ্ছাশক্তির। আর এই দুটি গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান সে একদিন না একদিন সাফল্যের চূড়ায় ঠিক পৌঁছাবে। এই বিশ্বাসের উপর ভর করেই নাস্তিকেরা বলে দৈবশক্তি নয় ইচ্ছাশক্তিই মানুষকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে সক্ষম। তারা নিজেদের যুক্তির সপক্ষে প্রমাণ দেখান যে ইচ্ছাশক্তির উপর ভর করেই আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু আবিষ্কার করেছিল গাছের ও প্রাণ আছে, নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে পায়ের ছাপ রাখতে সক্ষম হয়েছিল। আবার বিজ্ঞানীরা নিজেদের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে মঙ্গলগ্রহে মানুষের বসবাসের কৌশল আবিষ্কার করছে। নিজেদের ইচ্ছাশক্তি কে কাজে লাগিয়ে প্রতি বছর কোন না কোন দেশের নাগরিক এভারেস্ট পর্বতমালাকে জয় করে চলেছে। আবার সমুদ্রের গভীর তলদেশের নানান তথ্য জানতে সক্ষম হয়েছে গবেষকরা। কম্পিউটার, ইন্টারনেট,স্যাটেলাইট, টেলিভিশনের আবিষ্কার বদলে দিয়েছে মানুষের জীবন যাপনের চিত্র যার দরুন মানুষ ঘরে বসেই জেনে যাচ্ছে দেশ বিদেশের খবর। আর এই সব কিছু  সম্ভব হয়েছে মানুষের উদ্যম প্রচেষ্টা ও ইচ্ছাশক্তির জন্যই।
আসলে ইচ্ছাশক্তি হল ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের এক ইন্দ্রিয়।যার ইচ্ছাশক্তি যত বেশি সে জীবনে ততো সাফল্য পায়। আর যার দুর্বল সে তার লক্ষ্যে পৌঁছনোর আগেই হেরে যায়। তখনই শুরু হয় ধর্মের দোহাই দিয়ে ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীলতা। আবার মানুষ যখন কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে পারে না তখন সে ঈশ্বরের কল্পনা করে মানসিকভাবে সাহস পেতে চায়। বর্তমান বিজ্ঞানীগণ বলেন ঈশ্বর যদি থাকে তাহলে সেই ঈশ্বরও প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণধীন। তাই শুধুমাত্র ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে নিজেকে দুর্বল করলে চলবে না।

Share

Recent Posts

প্রেমিকাকে মোবাইল ফোনে ডেকে মারধর প্রেমিকের

শুভঙ্কর অধিকারী, বসিরহাট(১৭ অক্টোবর): বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ থানার পূর্ব খেজুরবাড়িয়া গ্রামের ঘটনা। হিঙ্গলগঞ্জ মহা বিদ্যালয়ের এর প্রথম বর্ষের ছাত্রী বয়স… Read More

21 mins ago

ত্রিকোণ প্রেমের জেরে খুন নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোন কারণ তদন্তে পুলিশ

শুভঙ্কর অধিকারী, নিমতা(১৭ অক্টোবর): নবমীর শেষ রাতে নিমতার বঙ্কিম মোড়ে গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল দমদমের বাসিন্দা দেবাঞ্জন দাসের দেহ। ওই… Read More

24 mins ago

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশে আস্থা নেই খোদ রাজ্যপালের তাই পাঁচজন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কর্মী পাঠাচ্ছে কেন্দ্র

হীরক মুখোপাধ্যায় (১৭ অক্টোবর '১৯):-পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশে আস্থা নেই খোদ রাজ্যপালের তাই রাজ্যপালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিশেষ শিক্ষিত পাঁচজন… Read More

28 mins ago

বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শ্রীমদ্ভগবদগীতার বাস্তবতা (দ্বিতীয় পর্ব)

অর্পিতা সিনহা,বাঁকুড়া(১৫অক্টোবর): তৃতীয় অধ্যায়,কর্মযোগ : অর্জুন বললেন হে পরমেশ্বর কর্ম অপেক্ষা জ্ঞানই যদি শ্রেষ্ঠ হয় তাহলে মানুষ কেন এত হিংসা… Read More

2 hours ago

জাতীয় পতাকা উল্টোভাবে উত্তোলন করে রাজ্য সরকারের মুখ পোড়াল ডিরেক্টরেট অব কমার্সিয়াল ট্যাক্সেস

হীরক মুখোপাধ্যায় (১৬ অক্টোবর '১৯):- আজ সকালে ভারতের জাতীয় পতাকা উল্টোভাবে উত্তোলন করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সীমাহীন লজ্জার সামনে ফেলল সল্টলেকে… Read More

1 day ago

বর্তমানে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রীমদ্ভগবদগীতার বাস্তবতা

অর্পিতা সিনহা,বাঁকুড়া(১৫অক্টোবর ): শ্রীমদ্ভগবদগীতা হিন্দুদের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ। গীতা ৭০০টি শ্লোক ও১৮ টি অধ্যায় নিয়ে রচিত। শ্রীমদ্ভগবদগীতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখ নিঃসৃত… Read More

1 day ago