Categories: কলকাতা

কোরোনা ভাইরাস পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব বিস্তার করলে চীনের ২০ গুণ মানুষ প্রাণ হারাতে পারেন

হীরক মুখোপাধ্যায় (৭ মার্চ ‘২০):- ‘কোরোনা ভাইরাস’ ভারতে জাল বিস্তার করলে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই চীনের ২০ গুণ মানুষ মারা যেতে পারে বলে বিভিন্ন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
পশ্চিমবঙ্গে এত মানুষ মারা যাবার প্রধান কারণ হয়ে উঠবে সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকদের রোগী রেফার করার ঘটনা ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অপরিসীম দরিদ্রতা।

সরকারী হাসপাতালে রোগী গেলেই ছুতো খুঁজে তাদের অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়াই এখনকার সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকদের এক অবশ্য পালনীয় কর্তব্য।
অত্যন্ত নিম্নমেধার এই চিকিৎসকেরা বামজমানার শুরু থেকেই তাদের আসল কাজ ভুলে বসে অন্য সব কাজে দর হয়ে উঠেছেন।
পরিস্থিতি এখন এতটাই ভয়াবহ যে সামান্য রক্তাল্পতা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া রোগীকেও এরা নিজেদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করার ভরসা বা হিম্মত পান না।
উপমাটা শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই চরম বাস্তব। আর এই বাস্তব রহস্য জানেন বলেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ বিভাগের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তাঁর চোখের ছানি অপারেশন করার সময় পশ্চিমবঙ্গের নামজাদা ডাক্তারদের ভরসা না করে দক্ষিণ ভারতে ছোটেন। শুধু তাই নয় পশ্চিমবঙ্গের এক সাংসদ তথা খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখ অপারেশন করার সময় পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসকদের উপর কোনোরকম ভরসা না করে তাঁকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দক্ষিণ ভারতে।
এখন অধিকাংশ সময়ই দেখা যাচ্ছে কোলকাতার অধিকাংশ চিকিৎসকেরা যখন কোনো ঘটনায় রোগীকে জরুরী ভিত্তিতে অপারেশনের পরামর্শ দিচ্ছেন, তখন রোগী দক্ষিণ ভারতে ছোটেন দ্বিতীয় পরামর্শ নিতে। আর বেশিরভাগ সময় দেখা যায় দক্ষিণ ভারতের চিকিৎসকের পরামর্শে রোগীরা অল্প কিছু ওষুধ খেয়েই সুস্থ হয়ে যান।
সত্যি কথা বলতে এখন পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ চিকিৎসকেরাই আজ রাজ্যবাসীর ভরসা হারিয়েছেন।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশে রাজ্যের বেশ কিছু হাসপাতালে ‘কোরোনা ভাইরাস ওয়ার্ড’ তৈরী করা হয়েছে। ডাক্তারবাবুরাও সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দেওয়া শুরু করেছেন। ওঁনারা শ্রীমুখ দিয়ে এমন তোতাকাহিনী আওড়াচ্ছেন যা শুনে মনে হচ্ছে ‘কোরোনা ভাইরাস’ সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার থেকেও নির্বিষ। কথা প্রসঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, সাধারণ মানের বাড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু বা ডেঙ্গু ওরফে ডেঙ্গী-র কাছেই যখন এই মহান চিকিৎসকেরা ল্যাজেগোবরে হন তখন ‘কোরোনা ভাইরাস’ বিষয়ে তাঁদের উপর ভরসা করা কতটা যুক্তিযুক্ত ?

কিন্তু মুশকিল হচ্ছে সব জেনেও মুখ্যমন্ত্রী প্রকৃতপক্ষে কিছুই করতে পারবেন না। উনি যদি নির্দেশ দেন – কোনো অবস্থাতেই কোনো ‘কোরোনা ভাইরাস’-এ আক্রান্ত রোগীকে অন্য কোনো হাসপাতালে পাঠানো চলবেনা ; সেক্ষেত্রে অধিকাংশ রোগীই প্রায় বিনা চিকিৎসায় মরবেন।
আর জরুরী সময় হাসপাতালগুলো রেফার করার প্রতিযোগিতায় নামলে কোলকাতার হাসপাতালগুলোর অবস্থা সঙ্গিন হবে। সেই সময় একে তো কোলকাতার মানুষকে দেখার গুরুদায়িত্ব থাকবে কোলকাতার সরকারী হাসপাতালগুলোর উপর, তার উপর যদি জেলা থেকে স্রোতের মতো রোগী ঢোকে তাহলে তো কথাই নেই..কোলকাতার হাসপাতালগুলোর সমস্ত কাজই লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে। শুরু হবে চিকিৎসা বিভ্রাট।

ব্লক, মহকুমা বা জেলার হাসপাতালগুলো মুড়ি মুড়কির মতো রোগী রেফার করতে থাকলে গ্রাম বা শহরের গরীব রোগীদের কী হবে সেটা অবশ্যই ভাববার বিষয়।
অন্যদিকে এই ফাঁকে বেসরকারী হাসপাতালগুলো তাদের স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে ব্যবসা শুরু করলে একটু ক্ষমতাসম্পন্ন রোগীরাও অথই জলে পড়বেন।

ভুলে গেলে হবেনা, বিশ্বের অনেক দেশই এই রোগের প্রলয়ঙ্কারী দাপটের কাছে মাথা নুইয়েছে, চীন তো রোগের দাপটের সাথে এঁটে উঠতে না পেরে মুক্তকচ্ছ হয়ে রোগীদের ঘর থেকে টেনে বার করে গুলি করে মারছে।

এইরকম শোচনীয় সময় ডাক্তারদের উপর ভরসা না করেও থাকা যাবেনা, আবার ভরসা করতেও ভরসা হয়না।

পশ্চিমবঙ্গের মানুষের নাড়ি নক্ষত্র বোঝেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কিন্তু সব জেনে বুঝেও তিনি এখন নির্বাক।

সম্প্রতি কোলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমান সমাজের এক প্রার্থনা সভায় যোগ দিতে এসে চীনের কোলকাতা স্থিত কনসাল জেনারেল জানিয়ে গেছেন, ‘সূচনা লগ্ন থেকেই চীন সরকার অত্যন্ত দক্ষ হাতে এই রোগের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, চীনা চিকিৎসকদের দিনরাত ব্যাপী সেবাও প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু তা সত্তেও প্রায় ৩ হাজার মানুষ মারা গেছে চীনে।’

শুধু চীন নয় বর্তমানে এই ভাইরাস এশিয়া মহাদেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে, প্রাণহানির সংখ্যাও বেশ উদ্বেগজনক।
যেখানে বিশ্বের এক বৃহত্তম এলাকার নামজাদা চিকিৎসকেরা এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ, সেখানে দীর্ঘদিন রেফার করে মাইনে নিতে সিদ্ধহস্ত পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসকেরা রাজ্যবাসীকে কী আর সুরক্ষা দেবেন !
অবস্থার গতি প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে ‘কোরোনা ভাইরাস’ রাজ্যে জাল বিস্তার করলে চীনের ২০ গুণ বেশি মানুষ শুধু পশ্চিমবঙ্গেই মারা যাবেন।

Share

Recent Posts

ভাঙা বাড়িতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ,উদ্ধার এক সদ্যজাত শিশু

সৌগত মন্ডল(বীরভূম): শিশুটাকে সালবাদরা সুলাঙ্গা ভোট ভুটকুপাড়া পাওয়া গেছে আজ সকাল ৬ টায়। সিভিক পুলিশরা খবর দেয় আশা কর্মী কে,… Read More

13 hours ago

লকডাউনে অসহায় ব্যক্তিদের পাশে কাষ্ঠগড়া স্পোর্টস এন্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা

সৌগত মন্ডল (বীরভূম ): সারা দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। রাস্তা ঘাট থেকে শুরু করে যানবাহন দোকান সমস্ত কিছুই বন্ধ । একশ্রেণীর… Read More

1 day ago

নদিয়ায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

স্নেহাশীষ মুখার্জি, নদীয়া(২৯ মার্চ) : করোনা আবহে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা এক যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য নদিয়ার… Read More

2 days ago

উলুবেড়িয়া উপ- সংশোধনাগারে বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ বন্ধ

অভিজিৎ হাজরা, উলুবেড়িয়া: উলুবেড়িয়া উপ-সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ করোনা ভাইরাস এর সতর্কতা অবলম্বনে বন্দীদের সঙ্গে বাড়ির লোকেদের দেখা করা নিষিদ্ধ করেছে। দেশে… Read More

2 days ago

এক সামাজিক মাধ্যম দাবী করছে বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে ব্যবহৃত মাস্ক

হীরক মুখোপাধ্যায় (২২ মার্চ '২০):- যাঁরা এই মুহুর্তে 'কোরোনা ভাইরাস'-এর সংক্রমণ ঠেকাতে একবারের ব্যবহার উপযোগী সার্জিক্যাল মাস্ক বাজারের অনামী দোকান… Read More

1 week ago

বোমা বাঁধতে গিয়ে বোমের আঘাতে জখম এক

স্নেহাশীষ মুখার্জি, নদীয়া(২১ মার্চ ):বোমা বাঁধতে গিয়ে বোমের আঘাতে গুরুতর জখম এক তৃণমূল কর্মী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতা নীলরতন হাসপাতালে ভর্তি।… Read More

1 week ago